‘ইন্দিরা গান্ধীও এমন করেননি!’ প্লেনের কেবিনে সোজা পুলিশ, যন্তর-মন্তর আন্দোলনের মাঝেই শর্তসাপেক্ষে মুক্তি সিজেপি নেতাদের – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে উত্তপ্ত জাতীয় রাজনীতি। শনিবারে দিল্লি যন্তর-মন্তরে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)-র পূর্বনির্ধারিত প্রতিবাদ ঘিরে এক নজিরবিহীন ও নাটকীয় পরিস্থিতির সাক্ষী থাকল দেশ। সিজেপি-র আন্দোলন থামাতে দিল্লি পুলিশ যে পদক্ষেপ নেবে, তা হয়ত আয়োজকদের কল্পনার বাইরে ছিল। রাজধানী পৌঁছানোর আগেই বিমান থেকে সরাসরি আটক করা হয় দলটির শীর্ষ নেতৃত্বকে।
অবশেষে দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর রবিবার দিল্লি পুলিশ তাঁদের শর্তসাপেক্ষে মুক্তি প্রদান করে।
বিমানের ভেতর নজিরবিহীন পুলিশি পাকড়াও
মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অবিলম্বে পদত্যাগের দাবিতে শনিবার যন্তর-মন্তরে এক বিশাল বিক্ষোভ সমাবেশের আহ্বান জানিয়েছিল সিজেপি। তবে পুলিশ এই কর্মসূচির কোনো অনুমতি দেয়নি। আন্দোলন রুখতে রাজধানী দিল্লিকে কার্যত নিরাপত্তার নিশ্ছিদ্র দুর্গে পরিণত করা হয়।
অভিযোগ, শনিবার সকাল সাড়ে দশটা নাগাদ মুম্বই থেকে একটি বিমান দিল্লি বিমানবন্দরে অবতরণ করতেই সরাসরি প্লেনের কেবিনে ঢুকে পড়েন দিল্লি পুলিশের কর্মীরা। বিমানের ভেতরেই আটক করা হয় ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে, সহ-আহ্বায়ক আশুতোষ রাঙ্কা এবং মুখপাত্র সৌরভ দাসকে।
বিমানের ভেতর পুলিশি হানায় ক্ষোভ ফেটে পড়েন সিজেপি প্রধান অভিজিৎ দীপকে। পুলিশ কর্মীদের দিকে লক্ষ্য করে তিনি গর্জে উঠে বলেন, “এটা চরম স্বৈরাচারিতা! দিল্লি পুলিশ বিমানের ভেতর পর্যন্ত ঢুকে পড়ছে। ইন্দিরা গান্ধীও কখনো এমনটা করেননি। আমাদের গ্রেফতার করলেও আমরা ভয় পাচ্ছি না—গণতন্ত্র বাঁচানোর লড়াই চলবেই!”
কোন শর্তে মিলল মুক্তি?
শনিবার প্রতিরোধমূলক আটক (Preventive Arrest) করার পর রবিবার তাঁদের দিল্লি ক্যান্টনমেন্টের SEM আদালতে হাজির করা হয়। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে ৫০,০০০ টাকার ব্যক্তিগত বন্ডে সিজেপি-র তিন শীর্ষ নেতাকে জামিন দেওয়া হয়েছে।
তবে মুক্তি দেওয়ার ক্ষেত্রে আদালতের পক্ষ থেকে কঠোর শর্ত চাপানো হয়েছে। ‘এক্স’ (পূর্বতন টুইটার)-এ দিল্লি পুলিশের তরফে জানানো হয়, আগামী এক বছর এই নেতাদের অত্যন্ত দায়িত্বশীল ও শান্ত আচরণ বজায় রাখতে হবে এবং কোনোভাবে এলাকায় শান্তি বিঘ্নিত করা যাবে না—এই নির্দিষ্ট আইনি শর্ত মেনেই তাঁদের মুক্তি মঞ্জুর করা হয়েছে।
পুলিশি বাধা, বিমানবন্দরে আটক এবং পরবর্তী এই আইনি লড়াইকে ঘিরে নির্বাচন কমিশন বনাম সিজেপি-র টানাপোড়েন এখন জাতীয় রাজনীতির সবচেয়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।
