ইয়েদিয়ুরপ্পার রাজনীতির ৫০ বছর: ‘অভিমানোৎসবে’ দক্ষিণ ভারতের জননেতাকে কুর্নিশ অমিত শাহের

ইয়েদিয়ুরপ্পার রাজনীতির ৫০ বছর: ‘অভিমানোৎসবে’ দক্ষিণ ভারতের জননেতাকে কুর্নিশ অমিত শাহের

দক্ষিণা দাক্ষিণাত্যে বিজেপির জয়ের রূপকার বিএস ইয়েদিয়ুরপ্পার রাজনীতির ৫০ বছর পূর্ণ হলো। এই উপলক্ষ্যে চিত্রদুর্গে আয়োজিত ‘অভিমানোৎসব’ অনুষ্ঠানে বর্ষীয়ান এই নেতার ভূয়সী প্রশংসা করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। শনিবারের এই বিশেষ অনুষ্ঠানে ইয়েদিয়ুরপ্পাকে দক্ষিণ ভারতের রাজনীতির এক অনন্য উদাহরণ হিসেবে অভিহিত করে তাঁর জীবন থেকে শিক্ষা নিতে তরুণ প্রজন্মকে আহ্বান জানান শাহ।

চালের কলের কেরানি থেকে চারবারের মুখ্যমন্ত্রী

অনুষ্ঠানে অমিত শাহ ইয়েদিয়ুরপ্পার দীর্ঘ সংগ্রামের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে জানান, একসময় চালের কলের কেরানি হিসেবে জীবন শুরু করা এই মানুষটি আজ দেশের অন্যতম প্রতিষ্ঠিত কৃষক নেতা। চারবার কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার কৃতিত্ব অর্জন করা ইয়েদিয়ুরপ্পা প্রমাণ করেছেন যে, কঠোর পরিশ্রম ও জনসেবার মানসিকতা থাকলে প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও সফল হওয়া সম্ভব। শাহের মতে, যাঁরা একসময় দাবি করেছিলেন যে দক্ষিণ ভারতে বিজেপি কোনোদিন সরকার গড়তে পারবে না, ইয়েদিয়ুরপ্পা তাঁদের সেই ধারণাকে ভুল প্রমাণ করেছেন।

জনসেবা ও কৃষক কল্যাণের আদর্শ

বিএস ইয়েদিয়ুরপ্পার রাজনৈতিক দর্শন নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তিনি ‘জনসেবাই প্রভু সেবা’ এবং ‘কৃষক কল্যাণই রাষ্ট্র কল্যাণ’—এই দুই মূলমন্ত্রকে নিজের জীবনে বাস্তবায়িত করেছেন। দক্ষিণ ভারতের রাজনীতিতে ইয়েদিয়ুরপ্পার মতো চ্যালেঞ্জ আর কোনো নেতা মোকাবিলা করেছেন কি না, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন তিনি। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের ধর্মীয় গুরুদের উপস্থিতিতে শাহ আশাপ্রকাশ করেন যে, ইয়েদিয়ুরপ্পা দীর্ঘায়ু হবেন এবং আগামী দিনেও দলকে একইভাবে পথপ্রদর্শন করবেন।

রাজনীতিতে প্রভাব ও গুরুত্ব

বিশ্লেষকদের মতে, ইয়েদিয়ুরপ্পার এই অর্ধশতাব্দীর রাজনৈতিক জয়যাত্রা উদযাপনের মাধ্যমে বিজেপি দক্ষিণ ভারতে নিজেদের ভিত আরও মজবুত করার বার্তা দিল। বিশেষ করে কর্ণাটকের লিঙ্গায়ত সম্প্রদায়ের ভোটব্যাংক এবং সাধারণ মানুষের কাছে ইয়েদিয়ুরপ্পার যে গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে, তাকে সম্মান জানিয়ে শাহ মূলত আগামী নির্বাচনের আগে দলের কর্মীদের চাঙ্গা করার কৌশল নিয়েছেন। ইয়েদিয়ুরপ্পার এই বর্ণিল ক্যারিয়ার কেবল কর্ণাটক নয়, বরং সমগ্র দক্ষিণ ভারতে বিজেপির প্রসারে এক ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *