‘ইসলামিক ন্যাটো’ নিয়ে উচ্ছ্বসিত ট্রাম্প! পাকিস্তান-সৌদি অক্ষের দিকে কেন নজর রাখছে নয়াদিল্লি? – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
দিল্লি: মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে বড় ধরনের মোড় ঘটিয়ে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান স্বাক্ষর করেছে ঐতিহাসিক ‘মক্কা জয়েন্ট ডিফেন্স এগ্রিমেন্ট’। আন্তর্জাতিক মহলে এই চুক্তি ইতোমধ্যেই ‘মুসলিম ন্যাটো’ বা ‘ইসলামিক ন্যাটো’ নামে চর্চিত হচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ এই পদক্ষপকে স্বাগত জানিয়ে ‘বড়, সাহসী ও গুরুত্বপূর্ণ প্রথম পদক্ষেপ’ বলে অভিহিত করেছেন।
কী রয়েছে এই ‘মক্কা চুক্তিতে’?
- সম্মিলিত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা: ন্যাটোর ‘আর্টিকেল ৫’-এর মতো, এই চুক্তির আওতায় তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলা হলে তা বাকি দুই দেশের ওপর হামলা হিসেবে গণ্য হবে।
- যৌথ সামরিক কৌশল: স্থল, আকাশ, সমুদ্র ও সাইবার পরিসরে যৌথ সামরিক মহড়া চালানো হবে।
- প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি আদান-প্রদান: ড্রোন প্রযুক্তি নির্মাণ, যৌথ অস্ত্র তৈরি ও সামরিক প্রযুক্তি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে জোর দেওয়া হবে।
যদিও তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান এই চুক্তিকে ন্যাটোর সাথে তুলনা করেছেন, বিশ্লেষকদের একাংশ সতর্ক করে বলছেন—৩২ দেশের সমন্বিত সামরিক কমান্ড কাঠামোর তুলনায় এই চুক্তিটি বর্তমানে অনেক প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। তবে ভবিষ্যতে মিশর এই জোটে যোগ দিলে দক্ষিণ এশিয়া থেকে লোহিত সাগর পর্যন্ত এই জোটের কৌশলগত গুরুত্ব বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান
মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন-ইরান সংঘাত ও হুতি বিদ্রোহীদের হামলার আবহে দীর্ঘ এক বছরের আলোচনার পর এই চুক্তি চূড়ান্ত হয়। ট্রাম্পের মতে, এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো নিজেদের নিরাপত্তায় আত্মনির্ভরশীল হচ্ছে। অন্যদিকে ইরান বিষয়টিকে ইতিবাচক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখে জানিয়েছে, এটি বাইরের শক্তির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে আঞ্চলিক দেশগুলোর স্বনির্ভর হওয়ার একটি পদক্ষেপ।
ভারতের উদ্বেগ ও পর্যবেক্ষণ
এই চুক্তি নিয়ে কড়া নজর রাখছে নয়াদিল্লি। গত ১১ আগস্ট ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা ও স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
ভারতের মূল উদ্বেগ হলো—এই চুক্তির মাধ্যমে পাকিস্তান সৌদি আরবের বিপুল আর্থিক অনুদান এবং তুরস্কের উন্নত সামরিক প্রযুক্তি পাওয়ার সুবিধা লাভ করতে পারে। যদিও সৌদি আরব ও তুরস্ক উভয়েই ভারতের গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক অংশীদার, তাই নয়াদিল্লিকে খুব সতর্কতার সাথে আঞ্চলিক এই নতুন ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ সামলাতে হবে।
