উইল পেয়েও মিলল উচ্ছেদ! চরম অপমানে আত্মঘাতী গড়িয়ার যুবক – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
September 8, 202612:33 pm
নিঃসন্তান এক প্রবীণ দম্পতিকে টানা ১৪ বছর ধরে সন্তানস্নেহে দেখাশোনা করেছিলেন দূর সম্পর্কের আত্মীয় পলাশ বাগচি। সেবার বিনিময়ে নিজেদের ভিটেমাটি ওই যুবককে উইল করে দিয়ে যান বৃদ্ধ দম্পতি। কিন্তু অভিযোগ, স্থানীয় দুষ্কৃতীদের সহায়তায় জোরপূর্বক সেই বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয় তাঁকে। বাড়িছাড়া হওয়ার অপমান সহ্য করতে না পেরে শেষ পর্যন্ত আত্মহত্যার পথ বেছে নিলেন পলাশ। দক্ষিণ ২৪ পরগনার নরেন্দ্রপুর থানা এলাকার গড়িয়ার এই ঘটনায় বর্তমানে সরগরম এলাকা।
সেবার বদলে জুটল হুমকি: গড়িয়ার বাসিন্দা নিঃসন্তান প্রবীণ দম্পতি অমল ঘোষ ও সবিতা ঘোষের চিকিৎসার দায়িত্ব থেকে পারলৌকিক ক্রিয়া—সবই একা হাতে সামলেছিলেন নদিয়া থেকে আসা পলাশ। অবসরপ্রাপ্ত অমলবাবু এবং তাঁর স্ত্রী সবিতাদেবীর মৃত্যুর পর, তাঁদের উইল অনুযায়ী ওই বাড়িতে বাবা-মা, দিদি ও ভাগ্নিকে নিয়ে থাকতে শুরু করেন তিনি। কিন্তু অভিযোগ, সবিতাদেবীর মৃত্যুর পর থেকেই অমলবাবুর ভাই ও ভাইপোরা (বিপুল ঘোষ, শ্যামল ঘোষ, সজল ঘোষ প্রমুখ) বাড়িটি হাতানোর জন্য পলাশকে ক্রমাগত হুমকি ও মারধর করতে থাকে।
প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা ও চরম পরিণতি: বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টার বিরুদ্ধে পলাশ নরেন্দ্রপুর থানায় লিখিত অভিযোগ জানালেও পুলিশ কোনও ব্যবস্থা নেয়নি বলে দাবি পরিবারের। শেষমেশ দুষ্কৃতীদের অত্যাচারে ঘরছাড়া হয়ে গত ২৬ আগস্ট নদিয়ার গ্রামের বাড়িতে গিয়ে চরম অপমানে আত্মহত্যা করেন পলাশ। বর্তমানে তাঁর বৃদ্ধ বাবা-মা ও দিদি গড়িয়াতেই একটি ভাড়া বাড়িতে দিন কাটাচ্ছেন।
আইনি জটিলতা ও পরিবারের ক্ষোভ: পলাশের দিদি প্রিয়া বাগচির অভিযোগ, “বাড়ির উইল থেকে শুরু করে ইলেকট্রিক মিটার—সবই আমাদের নামে। সম্পত্তি সংক্রান্ত বিষয়টি নিয়ে বারুইপুর কোর্টে মামলা চলছে। আদালত কোনও রায় দেওয়ার আগেই কীভাবে বেআইনিভাবে আমাদের উচ্ছেদ করা হলো? পুলিশ অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার না করে উল্টে আমাদের মামলা তুলে নিতে চাপ দিচ্ছে।”
বিষয়টি নিয়ে অভিযুক্ত পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। স্বজনহারা পরিবারটি এখন বিচার পেতে আদালতের দরজায় কড়া নাড়ছে।
