উচ্চশিক্ষায় নতুন ইতিহাস! ঝাড়গ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে চালু হলো সাঁওতালি নাচ-গানের মাস্টার্স কোর্স – এবেলা

উচ্চশিক্ষায় নতুন ইতিহাস! ঝাড়গ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে চালু হলো সাঁওতালি নাচ-গানের মাস্টার্স কোর্স – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

ঝাড়গ্রাম: এতদিন লোকসংস্কৃতির আঙিনাতেই সীমাবদ্ধ থাকলেও, এবার সাঁওতালি গান, নাচ এবং ঐতিহ্য জায়গা পেল উচ্চশিক্ষার মূল স্রোতে। আদিবাসী সংস্কৃতির সঙ্গে যুক্ত ছাত্রছাত্রীদের জন্য উচ্চশিক্ষার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করল ঝাড়গ্রামের সাধু রামচাঁদ মুর্মু বিশ্ববিদ্যালয়। দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে সাঁওতালি সঙ্গীত ও নৃত্য নিয়ে দু’বছরের স্নাতকোত্তর (মাস্টার্স) কোর্স চালুর আনুষ্ঠানিক অনুমোদন মিলেছে রাজ্য উচ্চশিক্ষা দফতরের পক্ষ থেকে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবি, দেশের মধ্যে এই প্রথমবার কোনও উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এই দুটি বিষয়কে একসঙ্গে স্নাতকোত্তর স্তরে পড়ার সুযোগ তৈরি হলো।

নতুন এই কোর্সের সূচনা উপলক্ষে সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে এক বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন অনগ্রসর শ্রেণি কল্যাণ দফতরের মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডু, বিধায়ক প্রণত টুডু এবং সাংসদ কালীপদ সরেন। এই অনন্য উদ্যোগের ফলে একদিকে যেমন সাঁওতালি সংস্কৃতির শিল্পচর্চা আরও প্রসারিত হবে, তেমনই প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ও গবেষণার নতুন দুয়ার খুলে যাবে বলে মনে করছেন শিক্ষাবিদরা।

এর আগে ঝাড়গ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে সাঁওতালি সঙ্গীত ও নৃত্য বিষয়ে এক বছরের ডিপ্লোমা এবং পিজি ডিপ্লোমা কোর্স চালু ছিল। শিক্ষার্থীদের ক্রমবর্ধমান আগ্রহ ও চাহিদার কথা মাথায় রেখে এবার সেই পাঠ্যক্রমের পরিধি বাড়িয়ে দুই বছরের স্নাতকোত্তর স্তরে উন্নীত করা হলো। এর ফলে আগ্রহী পড়ুয়ারা এই বিষয়ে আরও গভীর ও বিস্তৃতভাবে শিক্ষালাভের সুযোগ পাবেন।

মূলত পড়ুয়ারা দীর্ঘদিন ধরেই এই দাবি জানিয়ে আসছিলেন। সাঁওতালি মাধ্যমের ছাত্রছাত্রীরা উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে এই বিষয়ে মাস্টার্স ডিগ্রি চালুর জোরালো দাবি তোলেন। সেই দাবির প্রেক্ষিতেই বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ উচ্চশিক্ষা দফতরের কাছে অনুমোদনের জন্য আবেদন জানায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য চন্দ্রদীপা ঘোষ জানান, “আমাদের সিলেবাস এবং শিক্ষক—সব প্রস্তুতিই আগে থেকে সম্পূর্ণ ছিল। মঙ্গলবার উচ্চশিক্ষা দফতরের চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়ার পরেই আমরা ভর্তির প্রক্রিয়া শুরু করে দিয়েছি। বৃহস্পতিবার থেকে পড়ুয়ারা ভর্তি হতেও শুরু করেছে।”

উপাচার্য আরও গর্বের সঙ্গে জানান যে, এটি কেবল পশ্চিমবঙ্গেই নয়, বরং সমগ্র দেশের মধ্যে প্রথমবার ঝাড়গ্রামের সাধু রামচাঁদ মুর্মু বিশ্ববিদ্যালয়ে সাঁওতালি সঙ্গীত ও নৃত্যে স্নাতকোত্তর কোর্স চালুর একটি ঐতিহাসিক ঘটনা।

আদিবাসী ছাত্রছাত্রীরা এই অধিকার ও সুযোগ অর্জনের জন্য অতীতে একাধিকবার আন্দোলনও করেছিলেন। নতুন এই কোর্স চালুর মাধ্যমে সেই দীর্ঘ লড়াইয়ের বাস্তব রূপায়ণ ঘটল। ধামসা-মাদলের ছন্দের সঙ্গে প্রাতিষ্ঠানিক শ্রেণিকক্ষের পাঠের মেলবন্ধনে সাঁওতালি সংস্কৃতির চর্চা এবং গবেষণা আগামী দিনে কোন নতুন উচ্চতায় পৌঁছায়, এখন সেটাই দেখার অপেক্ষা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *