উত্তপ্ত উত্তর ২৪ পরগনা, জলহাটিতে বোমাবাজিতে জখম ৫ বিজেপি কর্মী

উত্তর ২৪ পরগনা জেলাজুড়ে চরম রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। মধ্যমগ্রামে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর ঘনিষ্ঠ নেতার খুনের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার জলহাটিতে ভয়াবহ বোমাবাজির ঘটনা ঘটল। বুধবার রাতে জলহাটির ২ নম্বর ওয়ার্ডের দত্ত রোড এলাকায় বিজেপি কর্মীদের লক্ষ্য করে বোমা ছোড়ে একদল দুষ্কৃতী। এতে অন্তত পাঁচজন বিজেপি সমর্থক গুরুতর আহত হয়েছেন। চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, এই হামলাটি হয়েছে স্থানীয় বিধায়কের বাড়ির অত্যন্ত কাছে।
রক্তাক্ত মধ্যমগ্রাম ও তদন্তের তৎপরতা
ঘটনার সূত্রপাত বুধবার রাতে, যখন মধ্যমগ্রামের দোহারিয়া এলাকায় শুভেন্দু অধিকারীর সহকারী চন্দ্রনাথ রথকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয় এবং গুরুতর জখম হন তাঁর গাড়িচালক। এই হত্যাকাণ্ডের গুরুত্ব বিবেচনা করে খোদ রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধিনাথ গুপ্তা তদন্তভার তদারকি করছেন। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে সিআইডি আধিকারিকরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেছেন। শোকসন্তপ্ত পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে এলাকায় যান শুভেন্দু অধিকারী ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার।
জলহাটি ও বসিরহাটে ছড়াচ্ছে হিংসা
মধ্যমগ্রামের উত্তেজনার মধ্যেই জলহাটির সেন্ট জেভিয়ার্স স্কুলের কাছে নতুন করে অশান্তি শুরু হয়। স্থানীয় বিজেপি কর্মীদের অভিযোগ, তাঁরা যখন জনসংযোগ সারছিলেন, তখন মোটরবাইকে এসে দুষ্কৃতীরা তাঁদের লক্ষ্য করে বোমা ছুড়ে পালিয়ে যায়। আহতদের উদ্ধার করে আরজি কর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বিজেপির দাবি, হামলাকারীরা তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতী। অন্যদিকে, জেলার বসিরহাটেও রোহিত রায় নামে এক বিজেপি কর্মী গুলিবিদ্ধ হয়েছেন বলে খবর মিলেছে।
নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন ও পুলিশের ভূমিকা
একের পর এক খুনের চেষ্টা, গুলি ও বোমাবাজির ঘটনায় জেলার সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে জলহাটি ও মধ্যমগ্রামের স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে তল্লাশি চালাচ্ছে খড়দহ ও স্থানীয় থানার পুলিশ। নতুন করে যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সে জন্য জেলাজুড়ে কড়া নজরদারি ও নাকা চেকিং শুরু হয়েছে। অপরাধীদের শনাক্ত করতে পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ ও স্থানীয় সোর্সদের সাহায্য নিচ্ছে।
