উত্তরবঙ্গের উন্নয়নের রাশ আবারও কোচবিহারের হাতে, বড় দায়িত্বে ভূমিপুত্র নিশীথ

উত্তরবঙ্গের উন্নয়নের রাশ আবারও কোচবিহারের হাতে, বড় দায়িত্বে ভূমিপুত্র নিশীথ

উত্তরবঙ্গের উন্নয়ন দপ্তরের ব্যাটন আবারও কোচবিহার জেলার হাতেই থাকল। রবীন্দ্রনাথ ঘোষ ও উদয়ন গুহর উত্তরসূরি হিসেবে এই গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের দায়িত্ব নিলেন আর এক ‘ভূমিপুত্র’ নিশীথ প্রামাণিক। সোমবার নবগঠিত সরকারের দপ্তর বণ্টনে নিশীথের কাঁধে উত্তরবঙ্গ উন্নয়নের পাশাপাশি ক্রীড়া ও যুবকল্যাণ দপ্তরের দায়িত্বও তুলে দেওয়া হয়েছে। দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই রাজনৈতিক ভেদাভেদ ভুলে আমজনতাকে সঙ্গে নিয়ে উত্তরবঙ্গের সার্বিক উন্নয়নের অঙ্গীকার করেছেন নতুন মন্ত্রী।

উন্নয়নের কেন্দ্রে কোচবিহার ও নিশীথের অভিজ্ঞতা

তৃণমূল জমানায় উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তরের সূচনা হয়েছিল শিলিগুড়ির গৌতম দেবের হাত ধরে। তবে পরবর্তী সময়ে ২০১৬ ও ২০২১ সালে এই দপ্তরের দায়িত্ব পান কোচবিহারের দুই নেতা। এবার রাজ্যে ডবল ইঞ্জিন সরকারের সূচনায় সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে মাথাভাঙার বিধায়ক নিশীথ প্রামাণিকের ওপর ভরসা রেখেছে বিজেপি। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনের পূর্ব অভিজ্ঞতা থাকায় নিশীথকে উত্তরবঙ্গের অন্যান্য জয়ী প্রার্থীদের তুলনায় প্রশাসনিকভাবে বেশি দক্ষ মনে করছে নেতৃত্ব। পাহাড় থেকে সমতল এবং চা বাগান থেকে বনাঞ্চল—সমগ্র উত্তরবঙ্গের ৫৪টি আসনের মধ্যে ৪০টিতেই বিজেপি জয়লাভ করায় মানুষের প্রত্যাশার চাপও এখন তাঁর কাঁধে।

বঞ্চনা ঘোচানো ও ঝুলে থাকা প্রকল্পের বাস্তবায়ন

উত্তরবঙ্গের প্রতি দীর্ঘদিনের বঞ্চনার অভিযোগ মেটানোই এখন নতুন মন্ত্রীর প্রধান চ্যালেঞ্জ। নিশীথ প্রামাণিক নিজেই স্বীকার করেছেন যে, মালদহ থেকে কোচবিহার পর্যন্ত আটটি জেলায় প্রভূত উন্নয়নের অবকাশ রয়েছে। বিশেষ করে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী থাকাকালীন কোচবিহারে যে স্পোর্টস অ্যাকাডেমি তৈরির উদ্যোগ তিনি নিয়েছিলেন, যা এতদিন থমকে ছিল, তা এবার ডবল ইঞ্জিন সরকারের হাত ধরে বাস্তবায়িত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেছেন। শিলিগুড়ির ‘উত্তরকন্যা’ সচিবালয় থেকে দ্রুতই এই দপ্তরের কাজকর্ম পুরোদমে শুরু হতে চলেছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, এবার রাস্তা, সেতু বা স্কুল ভবনের মতো পরিকাঠামোগত উন্নয়নে স্বচ্ছতা আসবে এবং উত্তরবঙ্গের প্রতিটি জেলা সমান গুরুত্ব পাবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *