উত্তরবঙ্গে হাতির সুরক্ষিত যাতায়াতে ২০৭৭ কোটির প্রকল্প! NH-327-এ তৈরি হবে ৫টি বিশেষ আন্ডারপাস – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
উত্তরবঙ্গের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও বন্যপ্রাণের সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে যোগাযোগ ব্যবস্থায় এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিতে চলেছে রাজ্য সরকার ও বন দফতর। এই প্রথমবার বাংলায় হাতির যাতায়াতের সুবিধার্থে এবং বন্যপ্রাণ-মানুষের সংঘাত এড়াতে দার্জিলিং জেলার বাগডোগরা থেকে জলট্যাঙ্কির মাঝে তৈরি হতে চলেছে ৫টি সুবিশাল আন্ডারপাস।
জাতীয় সড়ক ৩২৭ (NH-327)-কে চার লেনে সম্প্রসারিত করার একটি বড় প্রকল্পের অংশ হিসেবে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বাগডোগরা-জলট্যাঙ্কি-খড়িবাড়ি-গালগালিয়া করিডরের মোট ৩১.০২ কিলোমিটার রাস্তা সম্প্রসারণের এই মেগা প্রজেক্টে খরচ ধরা হয়েছে প্রায় ২০৭৭ কোটি টাকা। এই প্রকল্পের আওতায় ৩টি বড় সেতু, ১টি আরওবি (ROB) এবং সার্ভিস রোড নির্মাণের পাশাপাশি হাতিদের সুরক্ষিত চলাচলের জন্য রাস্তার নিচ দিয়ে ৫টি বিশেষ প্যাসেজ বা ‘এলিফ্যান্ট করিডর’ তৈরি করার প্রস্তাব দিয়েছে বন বিভাগ।
আন্ডারপাসগুলির বিশেষত্ব ও অবস্থান: বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞ ও বনবিদদের একটি বিশেষ প্রতিনিধি দল ইতিমধ্যেই গত ৫ই অক্টোবর সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলি পরিদর্শন করেছেন। সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী:
- এই ৫টি আন্ডারপাসের সম্মিলিত দৈর্ঘ্য হবে প্রায় ১,৮০০ মিটার।
- প্রতিটি আন্ডারপাস প্রায় ৭ মিটার উঁচু এবং ২২ মিটার চওড়া হবে, যাতে একসঙ্গে পুরো হাতির পাল অনায়াসেই হাইওয়ের নিচ দিয়ে যাতায়াত করতে পারে।
- সবচেয়ে বড় আন্ডারপাস: নকশালবাড়ির কিরণচন্দ্র চা বাগান এলাকায় প্রায় ৭০০ মিটার দীর্ঘ একটি আন্ডারপাস তৈরি হবে।
- এছাড়া বাগডোগরার সন্ন্যাসী চা বাগানে ৩১৫ মিটার এবং দেওমনিতে ৪৯০ মিটার দীর্ঘ আরও দুটি বড় আন্ডারপাস নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
যেসব জায়গায় এই এলিফ্যান্ট করিডরগুলি থাকবে, সেখানে হাইওয়ের উচ্চতা সাধারণ রাস্তার থেকে কিছুটা বাড়ানো হবে। এর ফলে হাইওয়ের দ্রুতগামী যানবাহনের সাথে হাতিদের কোনো রকম সংঘর্ষের আশঙ্কা থাকবে না। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে উত্তরবঙ্গের বনাঞ্চলে বন্যপ্রাণীদের যাতায়াত যেমন নিরাপদ হবে, তেমনই পর্যটক ও সাধারণ মানুষের সড়ক যাত্রাও আরও সুগম হবে।
