উত্তরে হড়পা বানের ভয়ানক শঙ্কা, ফুঁসছে তিস্তা ও তোর্ষা নদী! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
টানা অতিভারী বৃষ্টি এবং পাহাড় থেকে নেমে আসা বিপুল জলের চাপে উত্তরবঙ্গে বন্যা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে। ভুটান এবং সিকিম থেকে ক্রমাগত জল ঢোকায় তিস্তা, তোর্ষা ও জলঢাকার মতো একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নদীর জলস্তর বিপদসীমা ছাড়িয়েছে। হড়পা বানের প্রবল আশঙ্কায় নদী তীরবর্তী অসংরক্ষিত এলাকার হাজার হাজার মানুষ আতঙ্কে প্রহর গুনছেন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সেচ দপ্তরের তরফে ইতিমধ্যেই লাল সতর্কতা জারি করা হয়েছে এবং পুলিশ-প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং করে স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে।
জনজীবন ও বন্যপ্রাণে চরম বিপর্যয়
পাহাড় এবং সমতলে একযোগে ভারী বৃষ্টির জেরে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষের জনজীবন। শিলিগুড়ি ও কোচবিহার শহরের বিস্তীর্ণ এলাকা, চম্পাসারি, প্রধান নগর থেকে শুরু করে আলিপুরদুয়ারের বিভিন্ন জনপদ বর্তমানে জলমগ্ন। সিকিমের মঙ্গন জেলায় একটানা অতিভারী বৃষ্টির ফলে তিস্তার জলোচ্ছ্বাসে ময়নাগুড়ির ধর্মপুর অঞ্চল-সহ ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের একাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। পাশাপাশি রংপো এলাকায় ভয়াবহ ভূমিধসের কারণে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে রংপো-রোরথাং রোড। জলের এই অস্বাভাবিক বৃদ্ধিতে কেবল মানুষ নয়, বিপন্ন হচ্ছে বন্যপ্রাণ। জলঢাকা নদীতে হাতির শাবক-সহ আটকে পড়া এবং চা-বাগান এলাকায় হাতির পালের নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে স্থানান্তর এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ভয়াবহ চিত্রই তুলে ধরছে।
কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব
এই বন্যা পরিস্থিতির মূল কারণ হলো সিকিম ও ভুটান পাহাড়ে অবিরাম বৃষ্টিপাত এবং পাহাড়ি ঢল। পাহাড়ের বিপুল জলরাশি সরাসরি সমতলের নদীগুলোতে এসে পড়ায় নদীগুলি তাদের স্বাভাবিক ধারণক্ষমতা হারিয়েছে। এর ফলে আগামী কয়েক দিনে উত্তরবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকায় এক ভয়াবহ বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে, যার জেরে নদীভাঙন, কৃষিকাজ এবং ঘরবাড়ির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে। সেচ দপ্তরের আধিকারিকদের মতে পরিস্থিতি আপাতত নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং কন্ট্রোল রুম থেকে সার্বক্ষণিক নজরদারি চালানো হচ্ছে, তবে আবহাওয়া পরিস্থিতির উন্নতি না হলে আরও বড় প্লাবনের ঝুঁকি থেকেই যাচ্ছে।
