উত্তর কলকাতার কিশোরীর অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার মামলায় সৎ বাবাকে বেকসুর খালাস করল হাইকোর্ট – এবেলা

উত্তর কলকাতার কিশোরীর অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার মামলায় সৎ বাবাকে বেকসুর খালাস করল হাইকোর্ট – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

কলকাতা: উত্তর কলকাতার এক কিশোরীর অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার ঘটনায় দায়ের করা পকসো মামলায় অভিযুক্ত সৎ বাবাকে বেকসুর খালাস করল কলকাতা হাই কোর্ট। নিম্ন আদালত তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করলেও, সাত বছর পর হাই কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ প্রমাণের অভাবে অভিযুক্তকে মুক্তি দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।

ঘটনার প্রেক্ষাপট: ২০১৮ সালের ১০ অক্টোবর ১৬ বছরের ওই কিশোরী পেটে প্রচণ্ড ব্যথা নিয়ে আরজি কর হাসপাতালে ভর্তি হয়। চিকিৎসকরা পরীক্ষা করে জানান, সে তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা এবং তার ‘একটোপিক প্রেগন্যান্সি’ হয়েছে। প্রাণ বাঁচাতে জরুরি অস্ত্রোপচারের পর কিশোরী তার মাকে জানায় যে, সৎ বাবা তাকে গত কয়েক মাস ধরে ভয় দেখিয়ে শারীরিক নির্যাতন করেছেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে টালা থানায় পকসো আইনের ৪ ও ৬ নম্বর ধারায় মামলা রুজু হয়। ২০১৯ সালে নিম্ন আদালত অভিযুক্ত বাবাকে দোষী সাব্যস্ত করে।

হাই কোর্টের পর্যবেক্ষণ: নিম্ন আদালতের রায়কে চ্যালেঞ্জ করে অভিযুক্ত হাই কোর্টে আপিল করেন। বিচারপতি রাজাশেখর মান্থা এবং বিচারপতি স্মিতা দাস দে-র ডিভিশন বেঞ্চ দীর্ঘ শুনানির পর জানায়:

  • প্রমাণের অভাব: কিশোরী অন্তঃসত্ত্বা ছিল এবং তার যৌন নিগ্রহ হয়েছিল—এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু এই ঘটনার সঙ্গে অভিযুক্ত সৎ বাবা যে সরাসরি যুক্ত, তা প্রমাণের মতো কোনো ফরেনসিক তথ্য বা ডিএনএ রিপোর্ট পুলিশের তদন্তে উঠে আসেনি।
  • সন্দেহ বনাম প্রমাণ: চিকিৎসকদের রিপোর্টে যে ইতিহাস লেখা হয়েছিল, তা সম্পূর্ণভাবে কিশোরীর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই তৈরি। আদালত মনে করে, ফৌজদারি আইন অনুযায়ী প্রসিকিউশন অভিযুক্তের অপরাধ প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়েছে।
  • আদালতের বার্তা: ডিভিশন বেঞ্চ সাফ জানিয়ে দেয়, সন্দেহ যতই প্রবল হোক না কেন, তা প্রমাণের বিকল্প হতে পারে না। তদন্তের ঘাটতি থাকার ফলে অভিযুক্তকে সন্দেহের সুবিধা (Benefit of Doubt) দিয়ে মুক্তি দেওয়া হলো।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *