উত্তাল পাকিস্তান! খামেনেইয়ের মৃত্যুতে মার্কিন দূতাবাসে হামলা ও ব্যাপক ভাঙচুর, পুলিশের গুলিতে মৃত ৬ – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনেইয়ের প্রয়াণের খবরে কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নিল পাকিস্তান। রবিবার করাচিতে মার্কিন দূতাবাসে হামলা চালায় কয়েকশ উত্তেজিত বিক্ষোভকারী। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনী লাঠিচার্জ এবং কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে। একপর্যায়ে পুলিশের গুলিতে ৬ জন প্রাণ হারিয়েছেন বলে জানা গেছে।
খামেনেইয়ের মৃত্যুতে জ্বলছে করাচি
সূত্রের খবর, খামেনেইয়ের মৃত্যুর প্রতিবাদে শিয়া সম্প্রদায়ের প্রায় ৫০০ জন মানুষ করাচির মার্কিন কনস্যুলেটে চড়াও হন। বিক্ষোভকারীরা দূতাবাসের জানালা ভাঙচুর করেন এবং নিরাপত্তা বেষ্টনী টপকে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করেন। পুলিশ আধিকারিক মহম্মদ জওয়াদ জানান, জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে নিরাপত্তা রক্ষীরা কড়া পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হন। এই সংঘর্ষে আহত হয়েছেন আরও বেশ কয়েকজন।
মার্কিন-ইজরায়েল বিরোধী স্লোগানে উত্তপ্ত লাহোর থেকে করাচি
শুধুমাত্র করাচি নয়, লাহোরসহ পাকিস্তানের একাধিক বড় শহরে আমেরিকা ও ইজরায়েল বিরোধী বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, আমেরিকা ও ইজরায়েলি হামলার কারণেই ৮৬ বছর বয়সে মৃত্যু হয়েছে খামেনেইয়ের। ১৯৮৯ সাল থেকে ইরানের নেতৃত্বে থাকা এই নেতার মৃত্যুতে গোটা ইসলামিক বিশ্বের ভূ-রাজনীতিতে বড়সড় পরিবর্তনের আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ইরানের পরবর্তী ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন
দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে ইরানকে আঞ্চলিক পরাশক্তি হিসেবে গড়ে তোলার কারিগর ছিলেন খামেনেই। তাঁর মৃত্যুর পর ইরানের ৮৮ সদস্যের বিশেষজ্ঞ পরিষদ (অ্যাসেম্বলি অফ এক্সপার্টস) নতুন উত্তরসূরি নির্বাচন করবে। তবে এখনও পর্যন্ত কোনো স্পষ্ট উত্তরসূরির নাম সামনে না আসায় এবং বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে দেশটির ভবিষ্যৎ নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা।

