‘উনি নিজে আসতে চান, তাই দাম বাড়াচ্ছেন!’ মহুয়াকে বেনজির আক্রমণ ‘বিদ্রোহী’ কাকলির – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
কলকাতা: তৃণমূলের অন্দরে ভাঙন ঘিরে এবার দুই মহিলা সাংসদের দ্বৈরথ তুঙ্গে। বিদ্রোহী সাংসদদের “৪ কোটি টাকা করে দেওয়া হয়েছে”— মহুয়া মৈত্রের এই বিস্ফোরক দাবির পালটা দিয়ে বারাসাতের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার দাবি করলেন, মহুয়া নিজে নতুন দলে আসতে চান, তাই মিথ্যা কথা বলে নিজের ‘দাম’ বাড়াচ্ছেন।
মহুয়ার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি
মহুয়ার অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন উড়িয়ে দিয়ে কাকলি বলেন, “উনি বলছেন আমরা নাকি চার কোটি টাকা পেয়েছি! এই অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। ২০ জন সাংসদের প্রতিনিধি হিসেবে বলছি, কেউ এক পয়সাও পায়নি। উনি কী করে জানলেন কাকে টাকা দেওয়া হয়েছে? ওনাকে কেউ টাকা দিয়েছে নাকি? এই মিথ্যাচারের বিরুদ্ধে আমরা ওনাকে আদালত পর্যন্ত টেনে নিয়ে যাব।”
‘সুবিধাবাদী’ তকমা ও সাংসদ পদে ইস্তফা নিয়ে জবাব
তৃণমূলের একাংশ যখন বিদ্রোহীদের ‘সুবিধাবাদী’ বলে তোপ দাগছে এবং সাংসদ পদ ছাড়ার দাবি তুলছে, তখন কাকলির স্পষ্ট জবাব—
- “আমি পেশায় ডাক্তার, সাংসদের বেতনের ওপর আমার পরিবার চলে না। সুবিধা বলতে যদি বেতন বোঝায়, তবে কালকেই পদত্যাগ করতে পারি।”
- সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা না দেওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “যাঁরা আমাকে ভোট দিয়ে জিতিয়েছেন, সেই সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলছি। তাঁরা যদি বলেন পদত্যাগ করে আবার লড়তে, আমি তাই করব।”
- কাকলির দাবি, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ভোটাররা স্পষ্ট বুঝিয়ে দিয়েছেন তাঁরা এই তৃণমূলকে আর চান না। তাই মানুষের রায়কে সম্মান জানাতেই তাঁরা নতুন দলে যোগ দিয়েছেন।
সারদা কেলেঙ্কারি ও দল ছাড়ার বিস্ফোরক কারণ
এতদিন কেন চুপ ছিলেন? এই প্রশ্নের উত্তরে কাকলি ঘোষ দস্তিদার দলের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ তোলেন। তিনি জানান, ২০১৩ সালে সারদা চিটফান্ডের টাকা তৃণমূলে আসার খবর টিভিতে দেখে তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ফোন করেছিলেন। কিন্তু নেত্রী তাঁকে বলেন, ‘টিভিতে সব ভুল দেখাচ্ছে।’ কাকলির দাবি, “দলের অন্দরে যখনই আমরা প্রশ্ন তুলেছি, তখনই আমাদের থামিয়ে দেওয়া হয়েছে। এমনকী টিভিতে গিয়ে কী বলতে হবে, তাও লিখে দেওয়া হত। বাধ্য হয়ে সেই সময় অনেক ভুল কথাও বলতে হয়েছে আমাদের।”
এনডিএ (NDA) জোটে যাওয়া প্রসঙ্গে তিনি জানান, দলে তাঁদের ‘ব্রেনওয়াশ’ করে রাখা হয়েছিল। এখন নরেন্দ্র মোদী ও অমিত শাহের কাজ এবং বাংলায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর দ্রুত কাজ করার পদ্ধতি দেখেই তাঁরা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
