উৎসবের পরেই রাজ্যে চাকরির বিরাট ধামাকা! নয়া শিল্পনীতিতে হাজার হাজার নিয়োগের বড় সিদ্ধান্ত নবান্নের – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
উৎসবের আমেজেই রাজ্যের বেকার যুবক-যুবতী এবং বিনিয়োগকারীদের জন্য এল বড় সুখবর। রাজ্যে দ্রুত শিল্পের প্রসার ঘটানো এবং বিপুল কর্মসংস্থান তৈরির লক্ষ্যে এক যুগান্তকারী শিল্পনীতি চালু করতে চলেছে রাজ্য সরকার। নবান্ন সূত্রে জানা গেছে, পুজো শেষ হলেই অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে এই সংক্রান্ত খসড়া প্রস্তাবটি চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে পেশ করা হবে। মুখ্যমন্ত্রীর সবুজ সংকেত পেলেই আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হবে এই নতুন নীতি।
নয়া শিল্পনীতির মূল বিষয়সমূহ:
- নিয়োগ বাড়ালেই মিলবে আর্থিক ছাড়: সরকারের মূল নীতি হলো—’যত বেশি কর্মী নিয়োগ, তত বেশি সরকারি ইনসেনটিভ’। কোনো শিল্প সংস্থা ন্যূনতম ১০০ জন স্থানীয় কর্মী নিয়োগ করলে, তাঁদের প্রভিডেন্ট ফান্ডের (PF) ৫০ শতাংশ খরচ বহন করবে রাজ্য সরকার। নিয়োগের সংখ্যা ৫০০ ছুঁলে সরকার পিএফ খরচের সর্বোচ্চ ৭০ শতাংশ পর্যন্ত মেটাবে।
- বিপুল বাজেটের বিশেষ ফান্ড: কর্মসংস্থান বৃদ্ধি ও শিল্পকে উৎসাহিত করতে ইতিমধ্যেই প্রায় ৫,০০০ কোটি টাকার একটি বিশেষ তহবিলের বন্দোবস্ত রেখেছে সরকার।
- অনগ্রসর জেলায় অতিরিক্ত সুবিধা: রাজ্যের পিছিয়ে পড়া জেলাগুলিতে নতুন কারখানা তৈরি করলে অতিরিক্ত ইনসেনটিভ, বিদ্যুৎ মাশুলে ছাড় এবং রাস্তাঘাটসহ অন্যান্য পরিকাঠামো উন্নয়নে বিশেষ সরকারি সহায়তা দেওয়া হবে।
- সহজ প্রশাসনিক প্রক্রিয়া: শিল্পপতিদের আমলাতান্ত্রিক জটিলতা থেকে মুক্তি দিতে এবং দ্রুত অনুমোদন নিশ্চিত করতে ‘সিঙ্গল উইন্ডো’ ব্যবস্থাকে আরও গতিশীল করা হচ্ছে।
আইনি ও আর্থিক জটিলতার চ্যালেঞ্জ:
তবে এই নতুন নীতি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কিছুটা আইনি ও আর্থিক বাধা রয়েছে। ২০২৫ সালে রাজ্যের পুরনো সমস্ত ইনসেনটিভ বাতিল করার জন্য একটি আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। নতুন সুবিধা চালু করতে হলে সেই আইন রদ করা প্রয়োজন। কিন্তু প্রশাসনের আশঙ্কা, পুরনো আইন বাতিল করা হলে ১৯৯৩ সাল থেকে আটকে থাকা প্রায় ২০,০০০ কোটি টাকার বকেয়া দাবির সম্ভাবনা আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারে। এর ফলে রাজ্য কোষাগারের ওপর ব্যাপক চাপ পড়ার ঝুঁকি রয়েছে। আগামী সপ্তাহে মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতিতে হতে চলা উচ্চপর্যায়ের বৈঠকেই এই জটিল আর্থিক সমীকরণের স্থায়ী সমাধানের পথ খোঁজা হবে।
