একেনবাবুর মাথায় চুল গজালেও তৃণমূল আর ফিরবে না, ফলতায় শমীকের তীব্র কটাক্ষ – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
বঙ্গ রাজনীতিতে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের সাহিত্য প্রীতি এবং চটজলদি তির্যক রসিকতার সুখ্যাতি রয়েছে। রাজনৈতিক সভায় তাঁর স্বভাবসিদ্ধ বাগ্মিতা যেমন দলীয় কর্মীদের চাঙ্গা করে, তেমনই বিরোধী শিবিরকে তীব্র বিঁধতেও সাহায্য করে। এবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের হাইভোল্টেজ পুনর্নির্বাচনের আগে ফের একবার নিজের চেনা কৌতুকী মেজাজে ধরা দিলেন তিনি। বাংলায় নবান্ন হাতছাড়া হওয়া তৃণমূল কংগ্রেস যে এ রাজ্যে আর কোনোদিন ক্ষমতায় ফিরতে পারবে না, তা বোঝাতে এবার বলিউড ছাড়িয়ে সোজা টলিউডের জনপ্রিয় গোয়েন্দা চরিত্র ‘একেনবাবু’কে টেনে আনলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি।
অনুপম খেরের পর এবার নিশানা একেনবাবু
দিনকয়েক আগেই রাজ্যের তৎকালীন শাসকদলের প্রত্যাবর্তনকে বলিউড অভিনেতা অনুপম খেরের টাক মাথায় চুল গজানোর সঙ্গে তুলনা করেছিলেন শমীক ভট্টাচার্য। সেই মন্তব্য নিয়ে খোদ অনুপম খের সমাজমাধ্যমে মজার প্রতিক্রিয়াও দিয়েছিলেন। এবার রবিবার ফলতার নির্বাচনী জনসভায় দাঁড়িয়ে সেই রসিকতার পরিধি আরও কিছুটা বাড়িয়ে দিয়ে শমীক বলেন, “একেনবাবুর মাথায় চুল গজালেও গজাতে পারে, তবু তৃণমূল আর ফিরবে না!” ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে ২৯৩টি আসনের মধ্যে ২০৭টি আসনে জিতে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বাংলায় ইতিমধ্যেই সরকার গড়ে ফেলেছে বিজেপি। জয়ের সেই টাটকা আবহের মধ্যেই শমীকের এই মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
ফলতার লড়াই ও রাজনৈতিক বার্তা
সাধারণ নির্বাচনে ইভিএম কারচুপির অভিযোগে আগামী ২১ মে ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রে পুনর্নির্বাচন হতে চলেছে। রবিবার সেখানে বিজেপি প্রার্থীর সমর্থনে আয়োজিত জনসভায় বক্তব্য রাখার সময় শমীক দাবি করেন, আগের সরকারের আমলে নেতা, মন্ত্রী আর পুলিশ-প্রশাসন মিলেমিশে একাকার হয়ে গিয়েছিল। সেই প্রতিকূলতার মধ্যেও ডায়মন্ড হারবারে দাঁতে দাঁত চেপে লড়াই করেছেন বিজেপি কর্মীরা। তাঁর মতে, বাংলার মানুষ তৃণমূলকে রাজনৈতিকভাবে নির্বাসিত করে দিয়েছে। এর পরেই চেনা কৌতুকের সুরে জনপ্রিয় ওয়েব সিরিজের প্রসঙ্গ টেনে তিনি তৃণমূলের প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনাকে সম্পূর্ণ নস্যাৎ করেন।
শমীকের মন্তব্যে মজেছেন খোদ পর্দার একেনবাবু
বিজেপির রাজ্য সভাপতির এই উপমা নিয়ে যখন সমাজমাধ্যমে হাসাহাসি চলছে, তখন এই বিষয়ে মুখ খুলেছেন খোদ একেনবাবু চরিত্রের জনপ্রিয় অভিনেতা অনির্বাণ চক্রবর্তী। তিনি অত্যন্ত মজার ছলে পুরো বিষয়টিকে গ্রহণ করেছেন। অভিনেতা জানান, শমীকবাবু একেনবাবুর একজন বড় ভক্ত এবং ওঁর সব সিনেমা-সিরিজ দেখেছেন। নির্বাচনী প্রচারে এই চরিত্রের উল্লেখ আদতে একেনবাবুর জনপ্রিয়তারই প্রমাণ। অভিনেতা আরও যোগ করেন, এর পরে যখন শমীক ভট্টাচার্যের সঙ্গে তাঁর দেখা হবে, তখন তিনি নিজে এই মজার মন্তব্যটি নিয়ে কথা বলবেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের আগে শমীকের এই ধারালো রসিকতা একদিকে যেমন দলীয় কর্মীদের মনোবল বাড়াচ্ছে, তেমনই তৃণমূলের কামব্যাক করার সমস্ত দাবিকে মনস্তাত্ত্বিক স্তরে খাটো করার একটি সুপরিকল্পিত কৌশল।
