এক কলেই বাজিমাত মমতার, বিদ্রোহী বিধায়কদের মান ভাঙাতে আসরে স্বয়ং নেত্রী! – এবেলা

এক কলেই বাজিমাত মমতার, বিদ্রোহী বিধায়কদের মান ভাঙাতে আসরে স্বয়ং নেত্রী! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরমহলে যখন টালমাটাল পরিস্থিতি, তখন দলের রাশ নিজের হাতে তুলে নিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দলের ৫৮ জন বিদ্রোহী বিধায়ককে বাগে আনতে এবার সরাসরি ফোন নিয়ে ময়দানে নেমেছেন তৃণমূল সুপ্রিমো। পরিষদীয় দলের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ হাতছাড়া হওয়ার আশঙ্কায় যে অস্বস্তিকর আবহ তৈরি হয়েছে, তা প্রশমন করতেই এই কৌশল বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

বিদ্রোহীদের ঘরে ফেরানোর মরিয়া চেষ্টা

তৃণমূলের অন্দরের খবর অনুযায়ী, বিধায়কদের ক্ষোভের আঁচ পেয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই বিক্ষুব্ধদের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে যোগাযোগ শুরু করেছেন। দীর্ঘদিনের জমে থাকা অভিমান বা রাজনৈতিক দূরত্ব ঘুচিয়ে তাদের আবার মূল স্রোতে ফিরিয়ে আনাই এখন তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্বের প্রধান লক্ষ্য। একদিকে যখন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও আখরুজ্জমানদের মতো নেতারা বিরোধী কক্ষে দীর্ঘ বৈঠক করছেন, তখন মমতার এই ফোন কল পরিস্থিতিকে আরও জটিল ও রহস্যময় করে তুলেছে। যদিও এখন পর্যন্ত কোনো বিদ্রোহী বিধায়ক প্রকাশ্যে নেত্রীর কাছ থেকে ফোন পাওয়ার কথা স্বীকার করেননি, তবে দলের অন্দরে এই পদক্ষেপ এক ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন প্রভাব

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই ব্যক্তিগত হস্তক্ষেপের পেছনে রয়েছে এক বড় রাজনৈতিক ঝুঁকি ও সম্ভাবনা। বিধায়কদের এই বিদ্রোহ যদি প্রশমিত না হয়, তবে রাজ্য বিধানসভায় তৃণমূলের সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বড় ধরনের সংকট দেখা দিতে পারে। নেত্রীর এই সরাসরি হস্তক্ষেপ দলের অনুগতদের মধ্যে যেমন নতুন করে আশার সঞ্চার করেছে, তেমনই বিদ্রোহী শিবিরের অন্দরে তৈরি করেছে ধোঁয়াশা। তবে এই ‘ফোন diplomacy’ শেষ পর্যন্ত কতখানি সফল হয় এবং বিধায়কদের মনের অভিমান গলে কি না, তা দেখার অপেক্ষায় এখন রাজ্য রাজনীতি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *