এক পরিবার এক গ্যাস কানেকশন, জেনে নিন কখন হাতছাড়া হবে না আপনার রান্নার সিলিন্ডার – এবেলা

এক পরিবার এক গ্যাস কানেকশন, জেনে নিন কখন হাতছাড়া হবে না আপনার রান্নার সিলিন্ডার – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ার প্রভাবে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট তীব্র হয়েছে। এর আঁচ পড়েছে ভারতেও, যেখানে ইতিমধ্যেই তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দৈনিক জোগান প্রায় ৪ লাখ ব্যারেল হ্রাস পেয়েছে। এই নজিরবিহীন এলপিজি সংকট মোকাবিলায় ভারত সরকার ‘এক ঘর, এক এলপিজি কানেকশন’ নীতি কঠোরভাবে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সরকারের এই আকস্মিক নির্দেশিকায় সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে কিছুটা উদ্বেগ তৈরি হলেও, কোন পরিস্থিতিতে সিলিন্ডার জমা দিতে হবে না, তা স্পষ্ট করা হয়েছে।

নতুন নিয়ম ও সিলিন্ডার বাতিলের হুঁশিয়ারি

নতুন সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, কোনো গ্রাহকের বাড়িতে যদি পাইপড ন্যাচরাল গ্যাস বা পিএনজি (PNG) সংযোগ থাকে, তবে তিনি আর এলপিজি (LPG) সিলিন্ডার রাখতে পারবেন না। পিএনজি সংযোগ চালু হওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে পুরনো এলপিজি কানেকশনটি সারেন্ডার করা বাধ্যতামূলক। এই এক মাসের সময়সীমার মধ্যে সিলিন্ডার জমা না দিলে ইন্ডেন, ভারত গ্যাস বা এইচপি-এর মতো সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রায়ত্ত গ্যাস সংস্থাগুলি স্বয়ংক্রিয়ভাবে গ্রাহকের এলপিজি সংযোগটি বাতিল করে দেবে। ইতিমধ্যেই দেশের গ্যাস সংস্থাগুলি এই দ্বৈত সংযোগ চিহ্নিত করে অ্যাকশন মোডে নেমে পড়েছে।

কখন সারেন্ডার করতে হবে না

নতুন নিয়মের জেরে আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই, কারণ কিছু বিশেষ ক্ষেত্রে এলপিজি ও পিএনজি—উভয় সংযোগই একসঙ্গে রাখা যাবে। প্রথমত, পিএনজি সরবরাহকারী সংস্থা যদি লিখিতভাবে জানায় যে সংশ্লিষ্ট এলাকায় গ্যাসের জোগান স্বাভাবিক বা পর্যাপ্ত নয়, তবে গ্রাহক ব্যাক-আপ হিসেবে এলপিজি সিলিন্ডার নিজের কাছে রেখে দিতে পারবেন। দ্বিতীয়ত, বাণিজ্যিক বা ব্যবসার কাজে ব্যবহারের জন্য এলপিজি সিলিন্ডারের প্রয়োজন হলে সেটি জমা দিতে হবে না। এছাড়া গ্রাহকদের সুবিধার্থে ‘ট্রান্সফার ভাউচার’-এর ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ৩০ দিনের মধ্যে এলপিজি কানেকশন ছেড়ে দেওয়ার সময় এই ভাউচারটি সংগ্রহ করলে, ভবিষ্যতে প্রয়োজন অনুযায়ী পুনরায় এলপিজি সংযোগ নেওয়া সম্ভব হবে।

সংকটের প্রভাব ও ভবিষ্যৎ

আন্তর্জাতিক বাজারে জোগান ঘাটতির কারণে জুন মাসের শুরু থেকেই গার্হস্থ্য ও বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে সাধারণ মানুষের পকেটে। এই পরিস্থিতিতে সরকারের মূল লক্ষ্য হলো রান্নার গ্যাসের অপচয় রোধ করা এবং যেখানে পাইপলাইনের সুবিধা নেই, সেখানে এলপিজি সিলিন্ডারের জোগান সুনিশ্চিত করা। তবে সক্রিয় পিএনজি পাইপলাইন থাকা সত্ত্বেও যারা নোটিশ পাওয়ার পর এলপিজি সিলিন্ডার ধরে রাখবেন, তাদের সংযোগ স্থায়ীভাবে বিচ্ছিন্ন করা হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *