এখন দুয়ারে প্রধানমন্ত্রী, ১০০ দিন পূর্তিতে তারেক রহমানের বড় বার্তা বাংলাদেশবাসীকে – এবেলা

এখন দুয়ারে প্রধানমন্ত্রী, ১০০ দিন পূর্তিতে তারেক রহমানের বড় বার্তা বাংলাদেশবাসীকে – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

বাংলাদেশে বিএনপি সরকারের ১০০ দিন পূর্তি উপলক্ষ্যে জাতির উদ্দেশে বিশেষ বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সমাজমাধ্যমে দেওয়া এক ভাষণে তিনি দাবি করেছেন, বিগত ১০০ দিনে তাঁর সরকার ২৬টি ক্ষেত্রে অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জন করেছে। পূর্ববর্তী রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন ঘটিয়ে এখন ভুক্তভোগীরা আর প্রধানমন্ত্রীর কাছে যাচ্ছেন না, বরং প্রধানমন্ত্রী নিজে তাঁদের দুয়ারে পৌঁছে যাচ্ছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

১০০ দিনের চালচিত্র ও প্রধান সাফল্যসমূহ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঘোষিত সাফল্যের খতিয়ানে অর্থনৈতিক স্থীতিশীলতা এবং জনকল্যাণমূলক প্রকল্পগুলো বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। বিগত ১০০ দিনে মূল্যস্ফীতি কমে ৮.৭১ শতাংশে নেমে এসেছে এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৪৩৮ কোটি মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়েছে। সামাজিক নিরাপত্তার আওতায় ৫৩ হাজারেরও বেশি পরিবারকে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ এবং ২০ হাজারের বেশি পরিবারকে ‘কৃষক কার্ড’ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ৫৫ লক্ষ পরিবারকে ১৫ টাকা কেজি দরে চাল বিতরণ এবং প্রবীণ ও প্রতিবন্ধীদের জন্য মেট্রোরেল ও ট্রেনে ২৫ শতাংশ ভাড়া ছাড়ের সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে।

অবকাঠামো ও কৌশলগত ক্ষেত্রে পদ্মা ব্যারাজের চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, যা দেশের ৩৭ শতাংশ মানুষকে সরাসরি সুবিধা দেবে। পাশাপাশি দেশের বিমানবহর সম্প্রসারণে ১৪টি বোয়িং ক্রয়ের চুক্তি এবং দেশের আকাশসীমা সুরক্ষায় অত্যাধুনিক ‘গ্রাউন্ড মাস্টার-৪০০’ রাডার স্থাপন করা হয়েছে। প্রশাসনিক সংস্কারের অংশ হিসেবে বিতর্কিত এস আলম গ্রুপের ৪,২৬৪ কোটি টাকার স্থাবর সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা এবং বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনতে ৩টি দেশের সঙ্গে ঐতিহাসিক চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। একই সঙ্গে পাসপোর্টে পুনরায় ‘ইজ়রায়েল ব্যতীত’ শব্দবন্ধ ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।

কারণ ও সম্ভাব্য দূরগামী প্রভাব

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ক্ষমতাচ্যুত ফ্যাসিবাদী সরকারের অবসানের পর জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনা এবং অর্থনৈতিক গতিশীলতা পুনরুদ্ধার করাই এই সরকারের প্রধান লক্ষ্য। দ্রুততম সময়ে রিজার্ভ বৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং দুর্নীতিবাজদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার মতো পদক্ষেপগুলো দেশের ভঙ্গুর অর্থনীতিকে পুনরায় সচল করতে বড় কারণ হিসেবে কাজ করেছে।

এই ১০০ দিনের উন্নয়নমূলক ও সংস্কারমুখী কার্যক্রমের ফলে দেশের অভ্যন্তরীণ বাজার ব্যবস্থা এবং সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী আরও শক্তিশালী হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে কৃষি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে নেওয়া উদ্যোগগুলো দীর্ঘমেয়াদে গ্রামীণ অর্থনীতির রূপান্তর ঘটাতে পারে। বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধার এবং বড় বড় করপোরেট গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ফলে দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠার পথ সুগম হবে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *