এবার মুম্বইয়ে বড় খেলা! ৭ সাংসদ ও ১৬ বিধায়ক নিয়ে চরম সংকটে উদ্ধব ঠাকরে – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
মুম্বই: বাংলায় তৃণমূল কংগ্রেসে বড়সড় ধাক্কার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার মায়ানগরী মুম্বইয়ের ক্ষমতার অলিন্দেও তীব্র নাটকীয়তা। মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে ফের এক রাজনৈতিক সুনামি আসার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। দিল্লিতে তৃণমূলের ২০ জন সাংসদ একযোগে দল ছাড়ার গুঞ্জনের মধ্যেই এবার নতুন জল্পনা— আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেই উদ্ধব ঠাকরের নেতৃত্বাধীন শিবসেনা (UBT) শিবিরের ১৪ থেকে ১৬ জন বিধায়ক এবং অন্তত ৭ জন লোকসভা সাংসদ হাত ছাড়তে পারেন মাতোশ্রীর!
যদি এই জল্পনা সত্যি হয়, তবে ২০২২ সালে একনাথ শিন্ডের নেতৃত্বে হওয়া সেই ঐতিহাসিক বিদ্রোহের পর এটি হবে উদ্ধব শিবিরের জন্য দ্বিতীয় এবং চূড়ান্ত ধাক্কা।
মুম্বইয়ে ‘অপারেশন টাইগার’, তড়িঘড়ি বৈঠক ডাকলেন উদ্ধব
মহারাষ্ট্রের রাজনৈতিক মহলে এই মুহূর্তে সবচেয়ে চর্চিত শব্দবন্ধ হলো ‘অপারেশন টাইগার’। অভিযোগ উঠছে, বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডের নেতৃত্বাধীন আসল শিবসেনা এবার উদ্ধব শিবিরের বাকি জনপ্রতিনিধিদেরও নিজেদের দলে টেনে নেওয়ার জন্য জাল বিছিয়েছে। এই ভাঙনের গুঞ্জন ধামাচাপা দিতে এবং দলের আসল শক্তি যাচাই করতে রবিবারই মুম্বইয়ের ‘মাতোশ্রী’ বাসভবনে লোকসভা সাংসদদের নিয়ে এক অতি জরুরি বৈঠক করেন উদ্ধব ঠাকরে। তবে ড্যামেজ কন্ট্রোলের চেষ্টা করলেও ভেতরের হাওয়া যে খুব একটা সুবিধের নয়, তা মানছেন খোদ উদ্ধব অনুগামীরাই।
‘সাহস থাকলে নাম প্রকাশ করুক!’ চ্যালেঞ্জ উদ্ধব শিবিরের
অবশ্য বাইরে থেকে দলের এই ভাঙনের সম্ভাবনাকে সম্পূর্ণ ফুঁ দিয়ে উড়িয়ে দিচ্ছেন শিবসেনা (ইউবিটি) নেতারা। মাতোশ্রীর বৈঠক শেষে দলের প্রবীণ সাংসদ অরবিন্দ সাওয়ান্ত অত্যন্ত আক্রমণাত্মক সুরে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “যদি সত্যিই আমাদের দলের সাত জন সাংসদের দল ছাড়ার গল্প তৈরি হয়ে থাকে, তাহলে সাহস থাকলে তাদের নাম প্রকাশ করা হোক। উদ্ধবজির ডাকা বৈঠকে সব সাংসদই উপস্থিত ছিলেন। আমাদের দলে কোনও ফাটল নেই।”
‘মাতোশ্রীতে আমাদের সবসময় সন্দেহের চোখে দেখা হয়!’ পাল্টা শিন্ডে শিবির
উদ্ধব শিবির ভাঙন অস্বীকার করলেও শিন্ডে শিবিরের সাংসদ প্রতাপরাও যাদব এক বিস্ফোরক দাবিতে জল্পনায় ঘৃতাহুতি দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট জানান, যোগাযোগ তো বটেই, উদ্ধব শিবিরের অনেকেই এখন ঠাকরে পরিবার এবং সঞ্জয় রাউতের একনায়কতান্ত্রিক নেতৃত্বের ওপর চরম অসন্তুষ্ট। তাঁর দাবি, “উদ্ধব শিবিরে সাংসদ-বিধায়কদের সবসময় সন্দেহের চোখে দেখা হয়। সবাই হাঁপিয়ে উঠেছেন। তবে যোগাযোগ থাকলেই যে আজকেই কেউ দল ছাড়বেন, এমন নয়। সময় সব বলবে।”
অন্যদিকে, শিন্ডে শিবিরের প্রথম সারির নেত্রী শায়না এনসি এই দলবদলকে প্রশাসনিক মোড়ক দিয়ে বলেন, “অপারেশন টাইগার বলে আসলে কিছু নেই। মহারাষ্ট্রে এখন ডবল ইঞ্জিনের সরকারের কারণে এক অভূতপূর্ব উন্নয়নের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। এটাকে আমরা ‘অপারেশন প্রোগ্রেস’ বলতে পারি।”
তবে কি দিল্লিতে বড় খেলা?
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আপাতত জল্পনা-কল্পনার পারদ সপ্তমে চড়লেও বাস্তবে কতজন সাংসদ ও বিধায়ক শেষ পর্যন্ত বালাসাহেব ঠাকরের ছেলের হাত ছাড়েন, তা আগামী ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যেই খোলসা হয়ে যাবে। ঠিক যেভাবে দিল্লির স্পিকার ওম বিড়লার ঘরে গিয়ে তৃণমূলের সাংসদরা নতুন ঘুঁটি চেলেছিলেন, ঠিক একই কায়দায় উদ্ধব শিবিরের সাংসদরাও লোকসভায় নতুন কোনও সমীকরণ তৈরি করেন কিনা— এখন সেদিকেই পাখির চোখ দেশের রাজনৈতিক মহলের।
