এসেও কেন উধাও বর্ষার বৃষ্টি, হাওয়া অফিসের পূর্বাভাসে মিলল বড় সংকেত! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
খাতায়-কলমে বর্ষা এসে গেছে। দেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু প্রবেশ করলেও দেখা নেই কাঙ্ক্ষিত ঝেঁপে বৃষ্টির। তীব্র গরম থেকে মুক্তির আশায় থাকা সাধারণ মানুষকে আরও কিছুটা উদ্বেগে রেখে আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, অন্তত আগামী এক সপ্তাহ দেশজুড়ে ব্যাপক বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা খুবই কম। আবহাওয়ার বিভিন্ন মডেল অনুযায়ী, আগামী ২৩ জুনের আগে মৌসুমি বৃষ্টির উল্লেখযোগ্য উন্নতির কোনো সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না।
দুর্বল মৌসুমি বায়ু ও ক্রমবর্ধমান ঘাটতি
আবহাওয়াবিদদের মতে, মৌসুমি বায়ু মধ্য ও পূর্ব ভারতের বেশ কিছু অঞ্চলে প্রবেশ করলেও বর্তমানে এই আবহাওয়া ব্যবস্থা বা ওয়েদার সিস্টেম অস্বাভাবিকভাবে দুর্বল। ১৫ জুন থেকে ২১ জুনের মধ্যে দেশের একটি বড় অংশে মৌসুমি বৃষ্টিপাত প্রায় হবে না বললেই চলে। উপগ্রহ বা স্যাটেলাইট চিত্রেও পর্যাপ্ত মৌসুমি মেঘের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে না, যার ফলে ইতিমধ্যেই দেশের বড় অংশে বৃষ্টির ঘাটতি দেখা দিয়েছে। আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, মানচিত্রে মৌসুমি বায়ুর অগ্রগতি আর ব্যাপক বৃষ্টিপাত হওয়া সবসময় এক বিষয় নয়। বায়ুর বিস্তার উত্তর দিকে এগোলেও ভারী বৃষ্টির জন্য প্রয়োজনীয় বায়ুমণ্ডলীয় পরিস্থিতি এখন অত্যন্ত দুর্বল, যা এই ঘাটতির মূল কারণ। এই পরিস্থিতির কারণে দেশের বহু অঞ্চলে বৃষ্টির ঘাটতি আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা স্থানীয় কৃষি ও জলসংকটের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
কবে ফিরবে বৃষ্টির চেনা ছন্দ
তবে এই শুষ্ক পরিস্থিতির মধ্যেও কিছুটা আশার আলো দেখা যাচ্ছে জুনের শেষ সপ্তাহে। আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ২২ জুন থেকে ২৮ জুনের মধ্যে দেশের অভ্যন্তরীণ অঞ্চল, অন্ধ্রপ্রদেশ-কর্ণাটক সীমান্ত, দক্ষিণ তামিলনাড়ু এবং কেরলের পশ্চিমঘাট এলাকায় বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা বৃদ্ধি পেতে পারে। এছাড়া উপকূলীয় কেরল, কর্ণাটক এবং মুম্বই পর্যন্ত বিস্তৃত অঞ্চলেও বৃষ্টির পরিমাণ কিছুটা বাড়বে। তবে আবহাওয়া দফতর স্পষ্ট করেছে যে, বর্তমান পূর্বাভাসে অত্যন্ত ভারী বৃষ্টির কোনো ইঙ্গিত নেই। আবহাওয়ার বিভিন্ন মডেলের ইঙ্গিত অনুযায়ী, মাসের একেবারে শেষের দিকে অর্থাৎ ২৯ জুন থেকে ৫ জুলাইয়ের মধ্যে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু পুনরায় পুরোপুরি সক্রিয় হয়ে উঠতে পারে। তখনই আবহাওয়ার একটি বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে।
