‘ওরা কোভিড রোগী, ছোঁয়াচে বলে নিচ্ছে না বিজেপি!’ তৃণমূলের বিদ্রোহীদের তীব্র কটাক্ষ অধীরের – এবেলা
/indian-express-bangla/media/media_files/2025/07/05/adhir-2025-07-05-16-16-11.jpg?ssl=1)
এবেলা ডেস্কঃ
কলকাতা: তৃণমূলের দুর্দিনে দল ছেড়ে যাওয়া বা দলে থেকে বিদ্রোহ ঘোষণা করা নেতাদের এবার ‘করোনা ভাইরাস’-এর সঙ্গে তুলনা করলেন বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী। নাম না করে কাকলি ঘোষ দস্তিদার, শতাব্দী রায় কিংবা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়দের মতো বিদ্রোহী নেতাদের তীব্র ব্যঙ্গ করে তিনি বললেন, “বিজেপি ওদের কোভিড রোগী ভাবে, তাই নিজেদের দলে নিতে চাইছে না।”
কী বললেন অধীর? রবিবার তৃণমূলের বর্তমান টালমাটাল পরিস্থিতি নিয়ে মুখ খোলেন প্রাক্তন কংগ্রেস সাংসদ। তাঁর মতে, তৃণমূল এখন প্রধানত দুটি ভাগে বিভক্ত:
- একটি অংশ নিঃশর্তভাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গেই রয়েছে, যাঁরা কোনও কিছুর পরোয়া করেন না।
- আর একটি গোষ্ঠী বিজেপিতে যোগ দেওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে আছে।
কিন্তু অধীরের দাবি, এই দ্বিতীয় গোষ্ঠীর নেতাদের বিজেপি নিতে নারাজ। তাঁর তীক্ষ্ণ কটাক্ষ, “বিজেপি এদের কোভিড রোগী বা করোনা ভাইরাস হিসেবে দেখে। ছোঁয়া লেগে যাওয়ার ভয়েই ওদের দলে নিচ্ছে না গেরুয়া শিবির। তাই বাধ্য হয়ে এদের তৃণমূলের বিদ্রোহী শিবিরে ঢুকিয়ে দিচ্ছে।”
‘পিঠ বাঁচাতেই বিদ্রোহী গোষ্ঠী তৈরি’ রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অধীর রঞ্জনের এই আক্রমণের নিশানায় ছিলেন মূলত ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহাদের মতো নেতারা। প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতির স্পষ্ট দাবি, তৃণমূলের বিদ্রোহী গোষ্ঠী বলে আসলে কিছু নেই। এরা শুধুই নিজেদের পিঠ বাঁচাতে এমন একটি গ্রুপ তৈরি করেছে।
অধীরের মতে, এই বিদ্রোহী গোষ্ঠীতে থাকলে বেশ কিছু ‘সুবিধা’ পাওয়া যাবে:
- এদের বিরুদ্ধে কেউ মামলা করবে না বা ডিম থেরাপি হবে না।
- জেল খাটার ভয় থাকবে না এবং বুলডোজারও চলবে না।
- এমনকি সিবিআই, ইডি বা সিআইডি-র মতো তদন্তকারী সংস্থাও এদের ধরবে না।
তৃণমূলের এই বিদ্রোহীদের ‘কোভিড আক্রান্ত গ্রুপ’ আখ্যা দিয়ে অধীর রঞ্জন চৌধুরী শেষে আরও জানান, “ভোটের ফলাফলের পরেই বহু তৃণমূল বিধায়ক বিজেপিতে যাওয়ার জন্য লম্বা লাইন দিয়েছিলেন। কিন্তু ছোঁয়াচে ভেবে বিজেপি তাঁদের কাউকেই দলে নেয়নি।”
