‘কথা আমরা রাখবই!’ করম পরবের মঞ্চ থেকে কুড়মি সমাজকে বড় বার্তা শুভেন্দু অধিকারীর – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
September 21, 20267:32 am
করম উৎসব উপলক্ষে রবিবার পুরুলিয়ার কড়াডি মাঠে আয়োজিত বিশেষ উৎসবে শামিল হন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। কুড়মি সমাজের আমন্ত্রণে সেখানে উপস্থিত হলে ঐতিহ্যবাহী পাগড়ি পরিয়ে তাঁকে উষ্ণ সংবর্ধনা জানানো হয়। অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, কোনও মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে প্রথমবার এই পবিত্র উৎসবে উপস্থিত হতে পারা তাঁর জন্য এক বিরাট পরম প্রাপ্তি।
ভাষার স্বীকৃতি ও অধিকার রক্ষা কুড়মি সমাজের আবেগ ও অধিকারকে প্রাধান্য দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন, সংকল্পপত্রের প্রতিশ্রুতি মেনে কুড়মালি এবং রাজবংশী ভাষাকে সংবিধানের অষ্টম তফসিলে অন্তর্ভুক্ত করার কাজ দ্রুত গতিতে চলছে। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে ২০০৩ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ির নেতৃত্বেই সাঁওতালি ভাষা অষ্টম তফসিলের স্বীকৃতি পেয়েছিল। পাশাপাশি কুড়মি সমাজকে সমান নাগরিক সংহিতা বা ইউসিসি (UCC)-র আওতার বাইরে রাখা হয়েছে বলেও স্পষ্ট জানান তিনি। কুড়মিদের ভাষা, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও মৌলিক অধিকার সুরক্ষার পূর্ণ আশ্বাস দেন মুখ্যমন্ত্রী।
উন্নয়ন পর্ষদে বিরাট বাজেট বৃদ্ধি কুড়মি সমাজের আর্থ-সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিকাশে সরকারের সদিচ্ছার কথা তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, বিগত সরকার কুর্মি ডেভেলপমেন্ট বোর্ডের জন্য মাত্র ১০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছিল। বর্তমান প্রশাসন তা বাড়িয়ে ৫০ কোটি টাকা করেছে এবং আগামী বাজেটে এই অর্থের পরিমাণ আরও বৃদ্ধি করা হবে, যাতে সাংস্কৃতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে কোনও আর্থিক বাধা না আসে।
বিগত সরকারের প্রতি তোপ জঙ্গলমহলে কুড়মি আন্দোলনের দিনগুলোর কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে পূর্বতন সরকারের কঠোর সমালোচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, আগের সরকার কথা না রাখায় কুড়মি সমাজ আন্দোলনে নামতে বাধ্য হয়েছিল। কিন্তু সেই সময় তাঁদের ওপর নির্যাতন চালানো হয় এবং বৃদ্ধ ও শিশুদের বিরুদ্ধেও মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছিল।
দিনের প্রশাসনিক কর্মসূচী কড়াডি মাঠের অনুষ্ঠান শেষে পুরুলিয়া সার্কিট হাউসে প্রশাসনিক পর্যালোচনা বৈঠকে যোগ দেন মুখ্যমন্ত্রী। এরপর রবীন্দ্র ভবনে একটি নাগরিক সম্মেলনেও অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। করম পরবের মঞ্চকে কাজে লাগিয়ে জঙ্গলমহলের ভাষা, সংস্কৃতি ও সার্বিক উন্নয়নের এক স্পষ্ট রোডম্যাপ তুলে ধরলেন মুখ্যমন্ত্রী।
