কন্যা সন্তানের জন্ম দেওয়ায় ‘শাস্তি’! গৃহবধূকে বেধড়ক মারধর করে ঘরে আটকে রাখার অভিযোগ – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
হরিশ্চন্দ্রপুর: আধুনিক সমাজেও লিঙ্গবৈষম্য আর কুসংস্কারের শিকড় যে কতটা গভীরে, তার এক করুণ চিত্র ফুটে উঠল মালদহ জেলার হরিশ্চন্দ্রপুর-১ ব্লকের আঙ্গারমুনি গ্রামে। পরপর দুটি কন্যা সন্তানের জন্ম দেওয়ায় এক গৃহবধূর ওপর পাশবিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠল তাঁর স্বামীর বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী গৃহবধূ আয়েশা খাতুন বর্তমানে চিকিৎসাধীন এবং এই ঘটনায় অভিযুক্ত স্বামী হাসিম শেখের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
সংসারে অশান্তি ও নির্যাতনের সূত্রপাত
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ছয় বছর আগে প্রেম করে বিয়ে হয়েছিল আঙ্গারমুনি গ্রামের হাসিম শেখ ও উত্তর বাগমারা গ্রামের আয়েশা খাতুনের। বিয়ের শুরুর দিকে সম্পর্ক স্বাভাবিক থাকলেও প্রথম সন্তান কন্যা হওয়ার পর থেকেই মনোমালিন্য শুরু হয়। এরপর বছরখানেক আগে দ্বিতীয়বার আয়েশা কন্যা সন্তানের জন্ম দিলে অত্যাচারের মাত্রা চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছায়। অভিযোগ, গত তিন দিন ধরে ওই বধূকে ঘরে আটকে রেখে বেধড়ক মারধর ও অনাহারে রাখা হয়। আয়েশার বাবার দাবি, বিয়ের সময় আড়াই লক্ষ টাকা যৌতুক দেওয়ার পরেও সন্তানের লিঙ্গ পরিচয় নিয়ে তাঁর মেয়ের ওপর অমানবিক নির্যাতন চালানো হয়েছে।
অভিযোগ অস্বীকার ও পুলিশের পদক্ষেপ
অভিযুক্ত স্বামী হাসিম শেখ অবশ্য মারধরের কথা স্বীকার করলেও নির্যাতনের কারণ হিসেবে কন্যা সন্তানের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, উপার্জিত অর্থের হিসাব এবং বকেয়া যৌতুকের টাকা নিয়ে বিবাদের জেরে এই অশান্তি। তবে পুলিশ প্রাথমিক তদন্তে এই ঘটনার পেছনে সামাজিক কুসংস্কার ও পারিবারিক হিংসার যোগসূত্র খুঁজে পাচ্ছে। হরিশ্চন্দ্রপুর থানার আইসি সুমিত কুমার ঘোষ জানিয়েছেন, বধূকে উদ্ধার করা হয়েছে এবং অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
এই ঘটনার ফলে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। সমাজকর্মীদের মতে, বিজ্ঞানের জয়জয়কারের যুগেও কন্যাসন্তান জন্ম দেওয়ার জন্য মাকে দায়ী করা এবং তাঁর ওপর শারীরিক নিগ্রহ চালানো চরম উদ্বেগজনক। এই ধরনের অপরাধ দমনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি অত্যন্ত জরুরি।
