কর্নাটকে উলট পুরাণ! বিজেপি জোটের ১১ বিধায়কের ভোটে রাজ্যসভায় কংগ্রেসের বাজিমাত – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
রাজ্যসভার নির্বাচনে সাধারণত বিরোধী শিবিরের ভোট টেনে বাজিমাত করতে দেখা যায় বিজেপিকে। ঝাড়খণ্ডে কংগ্রেসের আসন ছিনিয়ে নিয়ে সেই চিত্রই দেখা গেলেও, কর্নাটকে ঘটল সম্পূর্ণ বিপরীত ঘটনা। রাজ্যসভার পঞ্চম আসনটি হিসাব মতো বিজেপির জোটসঙ্গী জেডিএস-এর পাওয়ার কথা থাকলেও, বিরোধী শিবিরের ১১ জন বিধায়কের সমর্থন আদায় করে সেই আসন জিতে নিয়েছে শাসক দল কংগ্রেস। বিজেপি এবং জেডিএস জোটের এই ‘ক্রস-ভোটিং’ রাজ্য রাজনীতিতে রীতিমতো আলোড়ন ফেলে দিয়েছে।
বিজেপি-জেডিএস জোটে ফাটল ও ক্ষোভের কারণ
এনডিএ শিবিরের এই বিপর্যয়ের নেপথ্যে রয়েছে শরিকি অন্তর্দ্বন্দ্ব। রাজ্যসভার নির্বাচনে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী এইচ ডি দেবগৌড়াকে প্রার্থী করতে চেয়েছিল প্রধান জোটসঙ্গী জেডিএস। কিন্তু তাদের অন্ধকারে রেখেই শেষ মুহূর্তে নিজেদের প্রার্থী ঘোষণা করে দেয় বিজেপি। এই ঘটনাতেই বিজেপির ওপর চরম ক্ষুব্ধ হয় জেডিএস-এর একাংশ। আসন নিশ্চিত করতে না পারায় দলের নেতা কুমারস্বামীর ভূমিকা নিয়েও ভেতরে অসন্তোষ তৈরি হয়। অন্যদিকে, কংগ্রেস নেতা শিবকুমারের বিরোধী শিবির ভাঙার পুরনো রাজনৈতিক কৌশল রয়েছে। শরিকি এই ক্ষোভকে কাজে লাগিয়েই কংগ্রেস তাদের ঝুলিতে অতিরিক্ত আসনটি পুরে নিয়েছে এবং রাজ্যসভায় নিজেদের সদস্য সংখ্যা ৭৫-এ উন্নীত করেছে।
দিল্লির তলব এবং সম্ভাব্য প্রভাব
নিজেদের দুর্গে এমন বড়সড় ফাটল প্রকাশ্যে আসতেই নড়েচড়ে বসেছে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। পুরো ঘটনার ব্যাখ্যা চেয়ে কর্নাটকের রাজ্য সভাপতি বিজয়েন্দ্রকে জরুরি ভিত্তিতে দিল্লিতে তলব করা হয়েছে। কারা দলের হুইপ অমান্য করে ‘ক্রস-ভোট’ করেছেন, তাদের চিহ্নিত করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। অন্যদিকে, অভাবনীয় এই জয়ে উচ্ছ্বসিত কংগ্রেস শিবির। মন্ত্রী প্রিয়ঙ্ক খাড়্গে ও সাধারণ সম্পাদক রণদীপ সিং সুরজেওয়ালার মতে, এই ফলাফল প্রমাণ করে বিজেপি ও জেডিএস-এর মধ্যে নেতৃত্বের চরম অভাব রয়েছে এবং এটি বিজয়েন্দ্র ও কুমারস্বামীর নেতৃত্বের প্রতি বিধায়কদের সরাসরি প্রত্যাখ্যান। সব মিলিয়ে, এই ঘটনা কর্নাটকে আগামী দিনে এনডিএ জোটের বোঝাপড়ায় বড়সড় প্রভাব ফেলার স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে।
