কর্নেল কুরেশি মামলা: ক্ষমা চাওয়া কি শুধুই লোকদেখানো? মধ্যপ্রদেশ সরকারকে চরম সময়সীমা দিল সুপ্রিম কোর্ট – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
সেনা কর্মকর্তা কর্নেল সোফিয়া কুরৈশিকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করার জেরে মধ্যপ্রদেশের আদিবাসী কল্যাণ মন্ত্রী কুনওয়ার বিজয় শাহের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের প্রক্রিয়ায় বিলম্ব হওয়ায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত। শুক্রবার প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর ডিভিশন বেঞ্চ রাজ্য সরকারকে এই বিষয়ে কড়া ভাষায় তিরস্কার করে। আদালতের নির্দেশ সত্ত্বেও কেন দুই সপ্তাহের মধ্যে মন্ত্রীর বিরুদ্ধে মামলা চালানোর অনুমতি দেওয়া হয়নি, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বেঞ্চ।
আদালতের কঠোর পর্যবেক্ষণ
শুনানি চলাকালীন সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা মন্ত্রীর মন্তব্যকে ‘দুর্ভাগ্যজনক’ বলে উল্লেখ করে দাবি করেন যে, মন্ত্রী সম্ভবত প্রশংসা করতে গিয়ে ভুল শব্দ প্রয়োগ করেছেন। তবে আদালত এই যুক্তি সরাসরি নাকচ করে দেয়। প্রধান বিচারপতি মন্তব্য করেন যে, রাজনীতিবিদরা জনসমক্ষে কথা বলার ক্ষেত্রে যথেষ্ট দক্ষ এবং সচেতন থাকেন; এটি যদি নিছক অনিচ্ছাকৃত ভুল হতো, তবে সঙ্গে সঙ্গেই ক্ষমা চাওয়া উচিত ছিল। এছাড়া এসআইটি-র স্ট্যাটাস রিপোর্ট উল্লেখ করে আদালত জানায়, ওই মন্ত্রীর এ ধরনের মন্তব্য করার পুরনো অভ্যাস রয়েছে।
আইনি প্রক্রিয়ার প্রভাব
সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, নিছক চিঠির মাধ্যমে ক্ষমা প্রার্থনা কোনো প্রকৃত অনুশোচনা নয়। এর আগে মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট বিজয় শাহের বিরুদ্ধে এফআইআর করার নির্দেশ দিয়েছিল, যার বিরুদ্ধে তিনি সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন। বর্তমানে সর্বোচ্চ আদালত রাজ্য সরকারকে পূর্ববর্তী আদেশ পালন করে দ্রুত মামলা শুরুর অনুমতি দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে বলেছে। আগামী চার সপ্তাহ পর এই মামলার পরবর্তী শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।
ঘটনার প্রেক্ষাপট ও কারণ
গত বছর ‘অপারেশন সিন্দুর’ চলাকালীন সেনা সাফল্যের খতিয়ান তুলে ধরছিলেন কর্নেল সোফিয়া কুরৈশি। সেই সময় কুনওয়ার বিজয় শাহ তাঁর সম্পর্কে অবমাননাকর মন্তব্য করেন বলে অভিযোগ। একজন দায়িত্বশীল সরকারি পদে থেকে দেশের সামরিক বাহিনীর নারী কর্মকর্তার সম্মানহানি এবং পরবর্তীতে আইনি প্রক্রিয়া এড়ানোর চেষ্টা প্রশাসনের নিরপেক্ষতাকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। আদালতের এই কঠোর অবস্থান ভবিষ্যতে জন প্রতিনিধিদের দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্য নিয়ন্ত্রণে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
এক ঝলকে
- কুনওয়ার বিজয় শাহের বিরুদ্ধে মামলা চালানোর অনুমতি দিতে বিলম্ব করায় মধ্যপ্রদেশ সরকারকে সুপ্রিম কোর্টের ভর্ৎসনা।
- কর্নেল সোফিয়া কুরৈশিকে নিয়ে কুরুচিকর মন্তব্যের জেরে মন্ত্রীর ক্ষমা প্রার্থনার সততা নিয়ে প্রশ্ন আদালতের।
- বিশেষ তদন্তকারী দলের (SIT) রিপোর্টে মন্ত্রীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।
- পরবর্তী চার সপ্তাহের মধ্যে রাজ্য সরকারকে এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
