কল্যাণের চোখে জল, হঠাৎ ‘আয় সুকান্ত আয়’ ডায়লগ টেনে কী বার্তা দিলেন তিনি! – এবেলা
/indian-express-bangla/media/media_files/2025/10/17/kalyan-sukanta-2025-10-17-15-46-35.jpg?ssl=1)
এবেলা ডেস্কঃ
নিজের গড় হিসেবে পরিচিত শ্রীরামপুরেই নজিরবিহীন হেনস্থার মুখে পড়লেন তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। হুগলির চণ্ডীতলা থানায় দলীয় কর্মীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে ডেপুটেশন দিতে গিয়ে ক্ষোভের মুখে পড়েন তিনি। সেখানে তাঁকে লক্ষ্য করে ‘চোর-চোর’ স্লোগান এবং কালো পতাকা দেখানো হয় বলে অভিযোগ। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, ধস্তাধস্তির মধ্যে পড়ে গিয়ে শেষ পর্যন্ত কান্নায় ভেঙে পড়েন প্রবীণ এই রাজনৈতিক নেতা। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই মুহূর্তে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক শোরগোল পড়ে গিয়েছে।
তৃণমূলের দাবি, এই ন্যাক্কারজনক হামলার নেপথ্যে বিজেপির সক্রিয় হাত রয়েছে। যদিও গেরুয়া শিবির এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে। সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, তিনি যখন হেঁটে আসছিলেন, তখন পাঁচ-ছয় জন যুবক তাঁকে লক্ষ্য করে বল ছোড়ে। এর আঘাতেই তিনি মাটিতে পড়ে যান এবং চোট পান। তবে স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, এই ঘটনা কেবল বাইরের রাজনৈতিক বিরোধ নয়, এর পেছনে শাসক দলের অভ্যন্তরীণ গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
অতীতের হুমকি ও বর্তমানের রাজনৈতিক সমীকরণ
এই ঘটনার পর স্বাভাবিকভাবেই ফিরে আসছে গত বছরের অক্টোবর মাসের একটি রাজনৈতিক প্রসঙ্গ। সেই সময় কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারকে উদ্দেশ্য করে অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। নিজের নির্বাচনী কেন্দ্র শ্রীরামপুরে সুকান্ত মজুমদারকে পা রাখার চ্যালেঞ্জ জানিয়ে তিনি বলেছিলেন, সেখানে এলে কীভাবে ঘরে ফেরেন তা দেখে নেওয়া হবে। আজ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই পরিণতির পর সুকান্ত মজুমদার পাল্টা কটাক্ষ করে মন্তব্য করেছেন যে, সুকান্ত বহাল তবিয়তেই ঘুরছেন, বরং ওখানকার জনতাই হয়তো কল্যাণের ‘কল্যাণ’ করে দিল।
গণতন্ত্রে হিংসার স্থান ও সম্ভাব্য প্রভাব
এই ঘটনা পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে এক নতুন বিতর্ক তৈরি করল। বিরোধী দলনেতারা একে অতীতের ‘অহঙ্কারের পতন’ হিসেবে দেখলেও, প্রকাশ্যে সুকান্ত মজুমদার জানিয়েছেন যে গণতন্ত্রে হিংসার কোনো স্থান নেই এবং এই ঘটনার তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। নিজের সংসদীয় এলাকাতেই একজন হেভিওয়েট সাংসদ যেভাবে আক্রান্ত ও হেনস্থার শিকার হলেন, তা আগামী দিনে ওই অঞ্চলের আইন-শৃঙ্খলা এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর গভীর প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
