কাউন্সিলর থেকে সোজা মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সি! শুভেন্দু অধিকারীর রাজনৈতিক জীবনের সেরা ১০ তথ্য

পশ্চিমবঙ্গের নবম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়ে এক নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা করলেন শুভেন্দু অধিকারী। ১৯৭০ সালে কাঁথির এক রাজনৈতিক পরিবারে জন্ম নেওয়া শুভেন্দুর উত্থান মূলত তৃণমূল স্তর থেকে। ছাত্ররাজনীতিতে হাতেখড়ি হওয়ার পর ১৯৯৫ সালে কাঁথি পুরসভার কাউন্সিলর হিসেবে তাঁর সংসদীয় রাজনীতির যাত্রা শুরু হয়। এরপর ২০০৬ সালে বিধায়ক এবং ২০০৯ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত সাংসদ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। তবে ২০০৭ সালের নন্দীগ্রাম আন্দোলনই তাঁকে রাজ্য রাজনীতিতে জননেতা হিসেবে শক্তিশালী ভিত গড়ে দিয়েছিল।
তৃণমূল থেকে বিজেপির কাণ্ডারি
তৃণমূল কংগ্রেসের অত্যন্ত দক্ষ সংগঠক এবং পরিবহন মন্ত্রী হিসেবে কাজ করার পর ২০২০ সালে এক নাটকীয় মোড় নিয়ে তিনি বিজেপিতে যোগ দেন। এই দলবদল রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি করলেও ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নন্দীগ্রামে পরাজিত করে তিনি নিজের রাজনৈতিক গুরুত্ব প্রমাণ করেন। পরবর্তীতে বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা হিসেবে কাজ করার পর বর্তমান রাজনৈতিক সমীকরণে তিনি বিজেপির প্রথম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে বাংলার দায়িত্ব গ্রহণ করলেন।
আগামী দিনের চ্যালেঞ্জ ও লক্ষ্য
মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর শুভেন্দু অধিকারী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দেওয়া প্রতিশ্রুতি পালনের ওপর জোর দিয়েছেন। তিনি তাঁর প্রশাসনকে ‘আমাদের সরকার’ বলে অভিহিত করে জনমুখী কাজের আশ্বাস দিয়েছেন। যদিও তাঁর রাজনৈতিক জীবনে সারদা বা নারদের মতো বিতর্ক ছায়া ফেলেছে, তবুও নিয়োগ দুর্নীতি থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট আন্দোলনে তাঁর সক্রিয়তা তাঁকে ক্ষমতায় পৌঁছাতে সাহায্য করেছে। তাঁর এই জমানায় কেন্দ্রীয় প্রকল্পের যথাযথ বাস্তবায়ন এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা আনাই হবে প্রধান লক্ষ্য।
এক ঝলকে
- কাউন্সিলর ও সাংসদ হওয়ার পর পশ্চিমবঙ্গের নবম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন শুভেন্দু অধিকারী।
- নন্দীগ্রাম আন্দোলনের প্রধান সংগঠক এবং ২০২১ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করার অনন্য রেকর্ড তাঁর ঝুলিতে।
- তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর দক্ষ সংগঠক হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করে আজ তিনি শীর্ষ পদে আসীন।
- মোদী সরকারের উন্নয়নমূলক প্রতিশ্রুতি পালন এবং স্বচ্ছ প্রশাসন গড়াই তাঁর প্রধান অঙ্গীকার।
