কাটমানি-সিন্ডিকেট ঠেকাতে নবান্নের ৪ হেল্পলাইন, প্রথম দিনেই ২ হাজার অভিযোগ! – এবেলা

কাটমানি-সিন্ডিকেট ঠেকাতে নবান্নের ৪ হেল্পলাইন, প্রথম দিনেই ২ হাজার অভিযোগ! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

রাজ্যে দুর্নীতি ও তোলাবাজি রুখতে এবং সাধারণ মানুষের সমস্যা সরাসরি প্রশাসনের সর্বোচ্চ স্তর পর্যন্ত পৌঁছে দিতে এক নজিরবিহীন উদ্যোগ নিল রাজ্য সরকার। কাটমানি, সিন্ডিকেটরাজ, বেআইনি টোল আদায় এবং অবৈধ মদের কারবারের মতো নানা অপরাধের বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ জানাতে চালু করা হয়েছে চারটি নতুন ডেডিকেটেড টোল-ফ্রি নম্বর। পরিষেবা চালু হওয়ার প্রথম ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই নবান্নের কন্ট্রোল রুমে মিলল অভূতপূর্ব সাড়া; জমা পড়েছে প্রায় ২০০০টি ফোন কল।

কোন নম্বরে কী নিয়ে অভিযোগ?

মঙ্গলবার ভবানীভবনে আয়োজিত একটি বিশেষ অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আনুষ্ঠানিকভাবে এই চারটি টোল-ফ্রি হেল্পলাইন নম্বরের উদ্বোধন করেন। নির্দিষ্ট বিষয়ের ওপর অভিযোগ জানানোর জন্য নম্বরগুলি হলো:

  • কাটমানি সংক্রান্ত অভিযোগ: ১৫৫৩৩৪
  • সিন্ডিকেট সংক্রান্ত অভিযোগ: ১৫৫৩৩৫
  • বেআইনি টোল আদায়: ১৫৫৩৩৭
  • অবৈধ মদের ব্যবসা: ১৫৫৩৩৯

প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত এই নম্বরগুলিতে ফোন করে সাধারণ মানুষ সরাসরি তাঁদের অভিযোগ নথিভুক্ত করতে পারবেন। তবে সরকারের তরফ থেকে স্পষ্টভাবে হুঁশিয়ারি দিয়ে জানানো হয়েছে, ব্যক্তিগত শত্রুতা মেটাতে বা কাউকে মিথ্যা ফাঁদে ফেলতে ভুয়ো তথ্য দিলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রথম দিনেই কিসের অভিযোগ বেশি?

নবান্ন সূত্রে খবর, প্রথম দিনে আসা কলগুলির সিংহভাগই ছিল কাটমানি, সিন্ডিকেট ও অবৈধ ব্যবসার বিরুদ্ধে। তবে এর পাশাপাশি ব্যাঘাতগ্রস্ত রাস্তাঘাট, জলজমা ও নিকাশি সমস্যা, জমি-বাড়ির বিবাদ এবং ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’-এর মতো সরকারি সামাজিক প্রকল্পের সুবিধা না পাওয়ার মতো দৈনন্দিন নানা ভোগান্তির কথাও সাধারণ মানুষ কন্ট্রোল রুমে জানিয়েছেন।

কীভাবে মিলবে সমাধান?

প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে, কন্ট্রোল রুমে আসা প্রতিটি ফোন কলের অডিও রেকর্ড সংরক্ষণ করা হচ্ছে, যা প্রয়োজনে তদন্তের কাজে ব্যবহৃত হবে। প্রাপ্ত অভিযোগগুলি দ্রুত বাছাই ও বিভাগভিত্তিক আলাদা করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) প্রযুক্তি ব্যবহারের বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ আগারওয়াল জানিয়েছেন, অভিযোগ পাওয়ার সাথে সাথেই তা সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তর বা পুলিশ প্রশাসনের কাছে পাঠিয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া কতগুলি অভিযোগ জমা পড়ল এবং তার মধ্যে কটির সমাধান হলো—তার একটি বিশদ ‘অ্যাকশন টেকেন রিপোর্ট’ (ATR) নিয়মিত মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরে পেশ করা হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *