কুলটির রাস্তায় বিজেপির ‘বুলডোজার’ মিছিল ও স্লোগান

বাংলার নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়ার পর রাজ্যজুড়ে জয়ের উদযাপনে মেতেছে বিজেপি শিবির। মঙ্গলবার আসানসোলের কুলটি বিধানসভা কেন্দ্রে এক নজিরবিহীন বিজয় মিছিলের সাক্ষী থাকল সাধারণ মানুষ। বিজয়ী বিজেপি প্রার্থী ডঃ অজয় পোদ্দারের নেতৃত্বে এই মিছিলে আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু ছিল বিশালাকার বুলডোজার। লছমনপুর থেকে শুরু হওয়া এই বর্ণাঢ্য মিছিলটি বারিরা অতিক্রম করে সভানপুরে গিয়ে শেষ হয়।
বর্তমানে ভারতের রাজনীতিতে বুলডোজার একটি বিশেষ রাজনৈতিক প্রতীকে পরিণত হয়েছে। সেই ধারা বজায় রেখেই কুলটির বিধায়ককে বুলডোজার নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে দেখা যায়, যা মুহূর্তেই সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে পড়ে। মিছিলে কয়েকশো বিজেপি কর্মী-সমর্থক অংশ নেন এবং দলের সাফল্যের সমর্থনে লাগাতার স্লোগান দেন। স্থানীয় নেতৃত্বের দাবি, এই বিপুল জয় কুলটির সাধারণ মানুষের আস্থা ও দীর্ঘদিনের সমর্থনের প্রতিফলন।
রাজনৈতিক বার্তা ও জনজীবনে প্রভাব
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিজয়ী মিছিলে বুলডোজারের ব্যবহার কেবল জয়ের উদযাপন নয়, বরং এটি একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক বার্তা। উত্তরপ্রদেশ মডেলে কড়া শাসনের যে ধারণা বিজেপি প্রচার করে, এই প্রতীকের মাধ্যমে সেই বার্তাটিই কর্মীদের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। তবে শুধু কুলটিই নয়, উত্তর ২৪ পরগনার জলহাটিসহ রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে একই কায়দায় বুলডোজার নিয়ে মিছিল করতে দেখা গেছে গেরুয়া শিবিরকে।
নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও আইনশৃঙ্খলা
নির্বাচন পরবর্তী এই বিজয় মিছিলকে কেন্দ্র করে যাতে কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি না হয়, সেজন্য পুরো রুট জুড়ে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল। যদিও মিছিল চলাকালীন কোথাও কোনও বড় ধরনের অশান্তির খবর মেলেনি। তবে জয়ের এই আবহে একাধিক জায়গায় তৃণমূলের দলীয় কার্যালয় ভাঙচুরের পালটা অভিযোগ উঠেছে, যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে উত্তেজনা বিরাজ করছে। সামগ্রিকভাবে, কুলটির এই জয়কে কেন্দ্র করে অঞ্চলের রাজনৈতিক সমীকরণে এক বড়সড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেখছেন সংশ্লিষ্ট মহল।
