কেউই জানত না সাঁতার! বন্ধুকে বাঁচাতে গঙ্গার খরস্রোতে একে একে তলিয়ে গেল ৪ তরুণ, হরিদ্বারে শোকের ছায়া! – এবেলা

কেউই জানত না সাঁতার! বন্ধুকে বাঁচাতে গঙ্গার খরস্রোতে একে একে তলিয়ে গেল ৪ তরুণ, হরিদ্বারে শোকের ছায়া! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

কাওয়ার যাত্রা সফলভাবে শেষ করে হাসিমুখে বাড়ি ফেরার কথা ছিল তাঁদের। কিন্তু হরিদ্বারের পবিত্র গঙ্গার জলে নিমেষেই সেই আনন্দ বদলে গেল বুকফাটা কান্নায়। বন্ধুকে বাঁচাতে গিয়ে গঙ্গার শক্তিশালী স্রোতে তলিয়ে মৃত্যু হলো চণ্ডীগড়ের চার কিশোরের। হৃদয়বিদারক বিষয় হলো, এই চারজনের কেউই সাঁতার জানত না।

মৃত চার তরুণ—ভারত (বিট্টু), নীতীশ, শিবাংশু এবং রোহিত—চণ্ডীগড়ের বাসিন্দা। মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় মৃতদের মধ্যে দুজন তাঁদের পরিবারের একমাত্র সন্তান ছিলেন।

কীভাবে ঘটল এই মর্মান্তিক ট্র্যাজেডি?

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা গেছে, গত ২৮ জুলাই চণ্ডীগড় থেকে ১৭ জনের একটি তরুণের দল কাওয়ার যাত্রায় হরিদ্বার যায়। যাত্রা শেষ করে ৩১ জুলাই বাড়ি ফেরার ঠিক আগে, জ্বালাপুর থানা এলাকার জাটওয়াড়া সেতুর কাছে গঙ্গায় স্নান করতে নামেন চার কিশোর।

স্নান করার সময় দলের সবচেয়ে ছোট সদস্য বিট্টু অসাবধানতাবশত গভীর জলে চলে যায় এবং নদীর তীব্র স্রোতে তলিয়ে যেতে থাকে। বিট্টুকে বিপদে পড়তে দেখে তাকে বাঁচাতে এগিয়ে যায় বাকি তিন বন্ধু। কিন্তু নদী ও জলের গভীরতা সম্পর্কে ধারণা না থাকা এবং সাঁতার না জানার কারণে, একে অপরকে ধরে চারজনই গঙ্গার তোড়ে তলিয়ে যায়।

উদ্ধারকাজ ও এলাকায় শোকের ছায়া

ঘটনার খবর পেয়েই দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় ডুবুরি ও উদ্ধারকারী দল। কিছুক্ষণের মধ্যেই নদী থেকে চারজনের নিথর দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়।

এই ঘটনার পর চণ্ডীগড়ের সংশ্লিষ্ট এলাকায় নেমে এসেছে গভীর শোকের মাতম। যে পরিবারের একমাত্র সন্তান চিরতরে চলে গেছে, তাঁদের স্বজনদের কান্নার রোল থামছেই না। সংবাদ পেয়ে শোকাহত পরিবারগুলির পাশে দাঁড়ান স্থানীয় কাউন্সিলর ও প্রতিনিধিরা। পবিত্র কাওয়ার যাত্রার শেষে এমন মর্মান্তিক ট্র্যাজেডিতে উত্তরাখণ্ড থেকে চণ্ডীগড়—সর্বত্রই শোকের আবহাওয়া।

Admin
  • Admin

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *