কেন্দ্রীয় অনুদান বন্ধের সিদ্ধান্তে বিপাকে থিয়েটার মহল, এবার বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি
ভারত সরকারের সংস্কৃতি মন্ত্রকের সাম্প্রতিক এক সিদ্ধান্তে দেশজুড়ে নাট্যচর্চা ও পারফর্মিং আর্টসের ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। কেন্দ্রীয় অনুদান বন্ধের প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার কলকাতা প্রেস ক্লাবে এক সাংবাদিক বৈঠকের আয়োজন করে ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল পারফর্মিং আর্টিস্টস কমিউনিটি’। শিল্পীদের অভিযোগ, গত ৬০ বছর ধরে চালু থাকা থিয়েটার, নৃত্য ও পাপেট থিয়েটারের অনুদান হঠাৎ বাতিল করায় গভীর সংকটে পড়েছেন হাজার হাজার নাট্যকর্মী। বিশেষ করে ‘স্যালারি গ্রান্ট’ এবং ‘গুরু-শিষ্য পরম্পরা’ প্রকল্পের আওতাধীন শিল্পীরা চরম আর্থিক অনিশ্চয়তার মুখে দাঁড়িয়েছেন।
এর আগে গত ৩০ মার্চ কলকাতার তপন থিয়েটারে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের নাট্যকর্মীদের নিয়ে এক জরুরি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে অভিযোগ তোলা হয় যে, কোনও সুনির্দিষ্ট কারণ না দর্শিয়েই বহু নাট্যদলকে ‘কুলড অফ’ তালিকায় পাঠিয়ে অনুদান বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। শিল্পীদের দাবি অনুযায়ী, এই সিদ্ধান্তের ফলে শুধুমাত্র পশ্চিমবঙ্গেই প্রায় ৩০০টি নাট্যদল এবং অন্তত ২০০০ শিল্পী সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। গত কয়েক বছর ধরে দফায় দফায় অনুদান বন্ধ হওয়ায় থিয়েটার মহলে তীব্র অসন্তোষ দানা বেঁধেছে।
নাট্যকর্মীরা স্পষ্ট জানিয়েছেন, থিয়েটার কেবল বিনোদন নয়, বরং সমাজের সাংস্কৃতিক বিকাশের অন্যতম স্তম্ভ। তাই এই সিদ্ধান্ত অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে। সাংবাদিক বৈঠক থেকে সংস্কৃতি মন্ত্রকের সঙ্গে আলোচনার পথ খোলা রাখার কথা বলা হলেও, দ্রুত ইতিবাচক পদক্ষেপ না নেওয়া হলে রাজপথে বৃহত্তর আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিশিষ্ট শিল্পীরা। সৃজনশীলতা ও স্বাধীন সাংস্কৃতিক চর্চা বজায় রাখতে শিল্পীদের এই লড়াই আগামী দিনে আরও তীব্র হওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
