কেরল কাঁপানো নৃশংসতা, ৬৪ জনের লালসার শিকার দলিত অ্যাথলিট কন্যা! – এবেলা

কেরল কাঁপানো নৃশংসতা, ৬৪ জনের লালসার শিকার দলিত অ্যাথলিট কন্যা! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

কেরলের পত্তনমতিট্টা জেলায় এক নাবালিকা অ্যাথলিটের ওপর দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে চলা পৈশাচিক যৌন নির্যাতনের ঘটনায় স্তম্ভিত গোটা দেশ। ১৩ বছর বয়স থেকে শুরু হওয়া এই ধারাবাহিক পাশবিকতায় এ পর্যন্ত ৬৪ জন অভিযুক্তের নাম উঠে এসেছে। নির্যাতিতা ওই কিশোরীর বয়ান অনুযায়ী, তার কোচ, সহপাঠী এবং সহ-অ্যাথলিটসহ সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ এই ঘৃণ্য অপরাধে লিপ্ত ছিল। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর পুলিশি তৎপরতায় এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।

তদন্তে উঠে আসা হাড়হিম করা তথ্য

পুলিশি তদন্তে জানা গেছে, নির্যাতিতা মেয়েটি তার বাবার মোবাইল ফোন ব্যবহার করে অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বাধ্য হতো। তার ডায়েরি এবং ফোনের কল লিস্ট পরীক্ষা করে পুলিশ ইতিমধ্যে ৪০ জনকে শনাক্ত করেছে। বর্তমানে পাঁচটি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে এবং বিশেষ তদন্তকারী দল (এসআইটি) গঠন করে ১৫ জনকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটির (সিডব্লিউসি) কাউন্সিলিং সেশনের সময় মেয়েটি নিজের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা প্রকাশ করলে এই নারকীয় ঘটনাটি সামনে আসে।

আইনি পদক্ষেপ ও প্রভাব

ঘটনাটি যখন শুরু হয় তখন মেয়েটি নাবালিকা ছিল, তাই ধৃতদের বিরুদ্ধে পকসো (POCSO) আইন এবং তফশিলি জাতি ও জনজাতি নির্যাতন বিরোধী কঠোর ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। নির্যাতিতার আচরণের আকস্মিক পরিবর্তন দেখে তার শিক্ষকরা প্রথম বিষয়টি আঁচ করেন এবং প্রশাসনকে অবহিত করেন। বর্তমানে মেয়েটিকে নিবিড় মানসিক চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে। পত্তনমতিট্টার পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, ঘটনার শিকড় জেলার বাইরেও বিস্তৃত থাকতে পারে এবং তদন্তের অগ্রগতির সাথে সাথে গ্রেপ্তারের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

এক ঝলকে

  • কেরলের পত্তনমতিট্টায় এক দলিত নাবালিকা অ্যাথলিটকে ৬৪ জন মিলে দীর্ঘ সময় ধরে গণধর্ষণ করেছে।
  • অভিযুক্তদের মধ্যে নির্যাতিতার কোচ, সহপাঠী এবং কাছের পরিচিত ব্যক্তিরা শামিল রয়েছে।
  • পুলিশ এখন পর্যন্ত ১৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে এবং পাঁচটির বেশি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে।
  • পকসো ও এসসি-এসটি আইনে মামলা রুজু করে ঘটনার তদন্তে বিশেষ দল (SIT) কাজ করছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *