কোটি টাকার ঘড়ি ও রহস্যময় ডায়েরি! শান্তনু-জয়ের ‘ত্রয়ী নেক্সাস’ নিয়ে ইডির বিস্ফোরক দাবি – এবেলা

কোটি টাকার ঘড়ি ও রহস্যময় ডায়েরি! শান্তনু-জয়ের ‘ত্রয়ী নেক্সাস’ নিয়ে ইডির বিস্ফোরক দাবি – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

রাজ্য রাজনীতিতে শোরগোল ফেলা এক জমি কেলেঙ্কারি মামলার তদন্তে নেমে বিস্ফোরক ‘ত্রয়ী নেক্সাস’ বা চক্রের হদিস মেলার দাবি করেছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার মতে, প্রমোটার, পুলিশ এবং প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতার মেলবন্ধনেই চলত জমি দখল আর বেআইনি নির্মাণের রমরমা সিন্ডিকেট। এই চক্রের অন্যতম পান্ডা শান্তনু সিনহা বিশ্বাসকে দেওয়া উপহারের তালিকায় কোটি টাকার বিলাসবহুল হাতঘড়িও রয়েছে। জয় কামদার নামে এক ব্যক্তি শান্তনু ও তাঁর পরিবারকে এই বহুমূল্য উপহার পাঠাতেন বলে ইডির দাবি। চক্রটি নির্বিঘ্নে চালাতে একাধিক মোবাইল ও ভুয়ো সিম কার্ড ব্যবহার করা হতো।

কলকাতা থেকে মুর্শিদাবাদে ছড়ানো জালের রহস্য

কেন্দ্রীয় এজেন্সির দাবি, এই সিন্ডিকেটের জাল ছড়িয়েছিল কলকাতা থেকে মুর্শিদাবাদ পর্যন্ত। মুর্শিদাবাদের কান্দির বাসিন্দা দোয়াত এসকে নামে এক ব্যক্তির সংস্থার সঙ্গেও শান্তনুর সরাসরি আর্থিক লেনদেনের প্রমাণ মিলেছে। শান্তনু এবং দোয়াত এসকে-র ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে দফায় দফায় বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা জমা পড়েছিল। এমনকি, মুর্শিদাবাদে শান্তনুর বাসস্থান সংস্কার করার জন্য প্রায় আড়াই কোটি টাকার একটি গোপন ‘ডিল’ হয়েছিল এবং সেই টাকা মেটানোও হয়েছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

তথ্যপ্রমাণ লোপাটের চেষ্টা ও ডায়েরির সূত্র

তদন্তে জানা গিয়েছে, এই বিপুল আর্থিক লেনদেনের পর তথ্যপ্রমাণ লোপাট করতে অভিযুক্তরা অত্যন্ত সক্রিয় ছিলেন। শান্তনু এবং জয়ের মোবাইল ঘেঁটে দেখা গিয়েছে, জয় কামদারই শান্তনুকে লেনদেন সংক্রান্ত সমস্ত মেসেজ মুছে ফেলার নির্দেশ দিয়েছিলেন। তবে জয় কামদারের ফোন থেকে ইতিমধ্যেই বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর ক্লু উদ্ধার হয়েছে, যেখানে ‘শান্তনু দা’ কিংবা ‘শান্তনু স্যর’ নামে একাধিক নম্বর সেভ করা ছিল। ফোনেই শেষ নয়, জয়ের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া একটি গোপন ডায়েরিতেও ‘শান্তনু দা’ নামে একাধিক আর্থিক লেনদেনের হিসাবের নোট লেখা রয়েছে।

প্রভাবশালীদের যোগসূত্র ও ভবিষ্যৎ প্রভাব

ইডি আধিকারিকদের দাবি, এই ডায়েরি এবং ফোনের তথ্যই প্রমাণ করে যে দুজনের মধ্যে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। প্রমোটারদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা তুলে তা স্থানীয় থানার একাংশ, এলাকার কাউন্সিলর এবং রাজনৈতিক ভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের মধ্যে ভাগাভাগি করা হতো। এই বিপুল দুর্নীতির কারণে সাধারণ মানুষের জমি বেদখল এবং বেআইনি নির্মাণের রমরমা যেমন বৃদ্ধি পেয়েছে, তেমনই এর নেপথ্যে থাকা আরও বড় রাঘববোয়ালদের চিহ্নিত করতে ধৃতদের আরও জেরা করতে চাইছে ইডি।

এক ঝলকে

  • প্রমোটার, পুলিশ এবং প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতাদের যোগসূত্রে জমি দখল ও বেআইনি নির্মাণের বড় সিন্ডিকেট চক্রের হদিস মিলেছে।
  • মূল অভিযুক্ত শান্তনু সিনহা বিশ্বাসকে জয় কামদার নামের এক ব্যক্তি কোটি টাকার বিলাসবহুল হাতঘড়িসহ একাধিক বহুমূল্য সামগ্রী উপহার দিয়েছিলেন।
  • কলকাতা থেকে মুর্শিদাবাদ পর্যন্ত বিস্তৃত এই চক্রে আড়াই কোটি টাকার গোপন ডিল এবং বিপুল পরিমাণ নগদ লেনদেনের তথ্য পাওয়া গিয়েছে।
  • ধৃত জয় কামদারের ফোন এবং উদ্ধার হওয়া ডায়েরি থেকে তথ্যপ্রমাণ লোপাটের চেষ্টা ও প্রভাবশালীদের টাকা ভাগ করে দেওয়ার চাঞ্চল্যকর হিসাব মিলেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *