‘কোথা থেকে পেলেন এত সাহস?’ দুবাইয়ের হাসপাতালে মোদীর ফোন, প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নে আবেগপ্রবণ জখম ভারতীয় পাইলট – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
দুবাইয়ের হাসপাতালে শুয়েও ককপিটের সেই নারকীয় মুহূর্তের কথা মনে পড়লে শিউরে উঠছেন তিনি। অতর্কিত হামলায় রক্তে ভেসে যাচ্ছিল শরীর, প্রায় বিচ্ছিন্ন হওয়ার জোগাড় হয়েছিল একটি হাত! তা সত্ত্বেও হাল ছাড়েননি ফ্লাইদুবাই-এর কম্যান্ডার ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছর। অদম্য সাহস আর উপস্থিত বুদ্ধির জোরে ১৭৪ জন যাত্রীকে মৃত্যুর মুখ থেকে ছিনিয়ে এনেছেন তিনি। সেই ঘটনার ৪৮ ঘণ্টা পর এই ‘সুপারহিরো’ কম্যান্ডারকে সরাসরি ভিডিয়ো কল করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
শুক্রবার সকালে দুবাইয়ের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন স্মিতের স্বাস্থ্যের খোঁজ নিতে প্রায় ৯ মিনিট কথা বলেন মোদী। জখম পাইলটের সাহসিকতা, দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা এবং ধৈর্যের ভূয়সী প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী।
‘ভয়াবহ মুহূর্তে একমাত্র মন্ত্র ছিল হনুমান চালিশা’
কথোপকথনের সময় প্রধানমন্ত্রীর প্রথম প্রশ্নই ছিল, “কোথা থেকে এত সাহস পেলেন?” উত্তরে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন ক্যাপ্টেন স্মিত। তিনি জানান, একের পর এক আঘাতে শরীর ক্ষতবিক্ষত হয়ে যাওয়ার পরেও তিনি জানতেন, জ্ঞান হারালে সব শেষ হয়ে যাবে। সেই কঠিন পরিস্থিতিতে মনকে শান্ত রাখতে ও শক্তি সঞ্চার করতে তিনি মনে মনে হনুমান চালিশা পাঠ করছিলেন। সেই মন্ত্র জপ করেই শেষ চেষ্টা চালিয়ে ককপিটের দরজা খুলে দেন তিনি, যার ফলে যাত্রী ও ক্রু সদস্যরা ভেতরে ঢুকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পেরেছিলেন।
‘আপনি ভারতকে গর্বিত করেছেন’
স্মিতের সাহসিকতার জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “জখম অবস্থায় আপনি যেভাবে উপস্থিত বুদ্ধি দিয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তা অসাধারণ। গোটা দেশ আপনার দ্রুত আরোগ্যের জন্য মহামৃত্যুঞ্জয় জপ করছে।” মোদী আরও বলেন, এই ঘটনা অন্য মোড় নিলে ভারতীয় পাইলটদের সুনাম প্রশ্নের মুখে পড়ত। কিন্তু স্মিত প্রমাণ করেছেন যে, ভারতীয়রা অন্যের প্রাণ কাড়েন না, বরং নিজের জীবন বাজি রেখে শত শত মানুষের জীবন বাঁচান।
‘আপনিই আমার সবচেয়ে বড় আদর্শ’
প্রধানমন্ত্রীর এই প্রশংসায় অভিভূত স্মিত জানান, সরাসরি নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে কথা বলতে পারা তাঁর জন্য অত্যন্ত গর্বের বিষয়। জখম কণ্ঠে আবেগ চেপে তিনি বলেন, “স্যার, আপনিই আমার সবচেয়ে বড় আদর্শ। আপনার ফোন পাওয়া আমার জীবনের অন্যতম বিশেষ মুহূর্ত।”
কথোপকথনে স্মিতের মা গীতা বেন ও পরিবারের মূল্যবোধের প্রশংসাও করেন প্রধানমন্ত্রী। স্মিতের চিকিৎসার জন্য ভারত সরকার ও স্থানীয় কূটনৈতিক মিশন সবরকম সাহায্য করবে বলে আশ্বাস দেন তিনি। একই সঙ্গে আপৎকালীন অবতরণ ও দ্রুত উন্নত চিকিৎসার বন্দোবস্ত করার জন্য সংযুক্ত আরব আমিরশাহি এবং সৌদি আরব কর্তৃপক্ষের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।
