কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করাই শেষ নয়! দিনে ৩ বার ইসবগুল খেয়ে আমূল বদলে গেল এই ব্যক্তির শরীর

কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করাই শেষ নয়! দিনে ৩ বার ইসবগুল খেয়ে আমূল বদলে গেল এই ব্যক্তির শরীর

সাধারণত কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতেই বাঙালির ঘরে ঘরে ইসবগুলের ভুসি ব্যবহারের প্রচলন রয়েছে। তবে দীর্ঘ ২০ বছরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ফিটনেস কোচ ডন গো সম্প্রতি এক টানা ২৮ দিন, দিনে তিনবার করে ইসবগুল গ্রহণ করে চমকপ্রদ ফলাফল পেয়েছেন। তিনি প্রতিটি খাবারের আগে দুই টেবিল চামচ ইসবগুল গ্রহণ করতেন, যা থেকে তিনি দৈনিক প্রায় ৪৮ থেকে ৫৬ গ্রাম ফাইবার পেতেন। ডনের মতে, এই পরীক্ষা তার শরীরের অভ্যন্তরীণ কার্যকলাপে এমন কিছু পরিবর্তন এনেছে যা তিনি আগে ভাবেননি।

শারীরিক পরিবর্তন ও চ্যালেঞ্জ

ডন জানান, পরীক্ষার প্রথম দুই দিন তিনি প্রচণ্ড ক্লান্তি অনুভব করেছিলেন। কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, ইসবগুল প্রচুর পরিমাণে জল শোষণ করে নেয় এবং শুরুতে পর্যাপ্ত জল না খাওয়ায় শরীরে জলের অভাব দেখা দিয়েছিল। তবে জলের পরিমাণ বাড়ানোর পর ক্লান্তি ভাব কেটে যায় এবং তৃতীয় দিন থেকেই তার খিদে কমতে শুরু করে। চতুর্থ দিন থেকে তার হজম প্রক্রিয়া উন্নত হয় এবং সপ্তম দিনের মাথায় পেটের গ্যাস বা ফাঁপা ভাব পুরোপুরি দূর হয়ে শরীর অনেক হালকা অনুভূত হতে থাকে।

সতর্কতা ও বিশেষজ্ঞের পরামর্শ

ইসবগুল অন্ত্রে গিয়ে জেলের মতো তৈরি হয়, যা হজম প্রক্রিয়াকে ধীর করে দেয় এবং উপকারী ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। তবে ডন সতর্ক করেছেন যে, এটি গ্রহণের সময় প্রচুর পরিমাণে জল পান করা আবশ্যিক, অন্যথায় এটি অন্ত্রে জমাট বেঁধে হিতে বিপরীত হতে পারে। যদিও ইসবগুলের উপকারিতা অনেক, তবুও শরীরচর্চাবিদদের মতে প্রাকৃতিক উৎস যেমন শাকসবজি, ফলমূল এবং ডাল থেকে ফাইবার গ্রহণ করাই স্বাস্থ্যের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ ও কার্যকর উপায়।

এক ঝলকে

  • টানা ২৮ দিন দৈনিক তিনবার ইসবগুল খেয়ে হজম শক্তি ও শরীরের মেদ নিয়ন্ত্রণে অভাবনীয় সাফল্য পেয়েছেন ফিটনেস কোচ ডন গো।
  • ইসবগুল গ্রহণের ফলে বারবার স্ন্যাকস খাওয়ার প্রবণতা কমেছে এবং পেটের অস্বস্তি দূর হয়েছে।
  • পর্যাপ্ত জল পান না করলে ইসবগুলের কারণে শরীরে ক্লান্তি বা ডিহাইড্রেশন দেখা দিতে পারে।
  • সুষম খাবারের মাধ্যমে প্রাকৃতিক ফাইবার গ্রহণকেই দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্যের জন্য সেরা উপায় বলে মনে করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *