ক্ষমতার পালাবদল হতেই কালিয়াচকে দাপুটে তৃণমূল নেতা গ্রেপ্তার, মালদায় তীব্র রাজনৈতিক শোরগোল – এবেলা

ক্ষমতার পালাবদল হতেই কালিয়াচকে দাপুটে তৃণমূল নেতা গ্রেপ্তার, মালদায় তীব্র রাজনৈতিক শোরগোল – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতার পালাবদল সম্পন্ন হতেই আইনশৃঙ্খলার ক্ষেত্রে বড়সড় অ্যাকশনে নামল পুলিশ। মালদার কালিয়াচকে দীর্ঘদিন ধরে চলা টোটো স্ট্যান্ডে তোলাবাজির অভিযোগে এক দাপুটে তৃণমূল নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে কালিয়াচক থানার পুলিশ। শুক্রবার গভীর রাতে ঘড়িয়ালিচক এলাকার নিজস্ব বাসভবন থেকে সাদ্দাম শেখ নামের ওই তৃণমূলের শ্রমিক সংগঠনের নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়। শনিবার ধৃতকে মালদা আদালতে পেশ করে পুলিশি হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে। এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই সমগ্র মালদা জেলা জুড়ে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক ও শোরগোল তৈরি হয়েছে।

ত্রাসের কারণ ও টোটো চালকদের ক্ষোভ

কালিয়াচক চৌরঙ্গী এলাকার টোটো চালকদের দীর্ঘদিনের অভিযোগ, সাদ্দাম শেখ শাসক দলের নাম ভাঙিয়ে স্ট্যান্ডের শতাধিক চালকের ওপর একাধিপত্য চালাত। প্রতিদিন টোটো পিছু ২০ থেকে ২৫ টাকা পর্যন্ত জোরপূর্বক তোলা আদায় করা হতো। চালকদের দাবি, এই নির্দিষ্ট অর্থ না দিলে স্ট্যান্ড থেকে যাত্রী তুলতে দেওয়া হতো না এবং বিভিন্নভাবে হেনস্তা করা হতো। অতীতে এই বিষয়ে একাধিকবার প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েও কোনো সুরাহা মেলেনি বলে অভিযোগ। রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ঘটতেই পুলিশ অবশেষে তৎপরতা দেখিয়ে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করায় স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন স্থানীয় সাধারণ খেটে খাওয়া চালকেরা।

তীব্র রাজনৈতিক তরজা ও সম্ভাব্য প্রভাব

এই গ্রেপ্তারির ঘটনাকে কেন্দ্র করে মালদার রাজনৈতিক পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। বিজেপির উত্তর মালদার সাংসদ খগেন মুর্মু তৃণমূলের তোলাবাজি ও সন্ত্রাসের কড়া সমালোচনা করে জানান, রাজ্যে ক্ষমতা হারানোর পরেও এদের ঔদ্ধত্য কমেনি। বেকার যুবকদের উপার্জনের ওপর এমন জোরজুলুমের বিরুদ্ধে পুলিশের এই লাগাতার অভিযান জারি রাখা উচিত। অন্যদিকে পাল্ট সুর চড়িয়ে তৃণমূলের জেলার সাধারণ সম্পাদক বিশ্বজিৎ ঘোষ স্পষ্ট করেছেন, দল এই ধরনের কোনো বেআইনি কাজকে সমর্থন করে না এবং আইন অনুযায়ী পুলিশ তার যথাযথ ব্যবস্থা নেবে। মালদার পুলিশ সুপার অনুপম সিং জানিয়েছেন, এই তোলাবাজি চক্রের সঙ্গে আর কারা যুক্ত রয়েছে, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত প্রক্রিয়া জারি রয়েছে। এই ঘটনার ফলে আগামী দিনে জেলার অন্যান্য স্ট্যান্ড ও ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তোলাবাজি বন্ধের ক্ষেত্রে পুলিশি তৎপরতা আরও বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *