খাস কলকাতায় স্কুলের গেট টপকে যুবকদের তাণ্ডব, সিসিটিভিতে ধরা পড়ল ভাঙচুরের ভয়ঙ্কর দৃশ্য! – এবেলা

খাস কলকাতায় স্কুলের গেট টপকে যুবকদের তাণ্ডব, সিসিটিভিতে ধরা পড়ল ভাঙচুরের ভয়ঙ্কর দৃশ্য! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

মহানগরের বুকে ফের বিঘ্নিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা। শনিবার ভোর সাড়ে ৪টে নাগাদ গড়িয়াহাট থানা এলাকার ঐতিহ্যবাহী কমলা চ্যাটার্জি গার্লস হাইস্কুলে একদল যুবকের বেপরোয়া ভাঙচুর ও তাণ্ডবের ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ভোরের আলো ফোটার আগেই স্কুলের মূল ফটক টপকে ভেতরে ঢুকে যেভাবে ধ্বংসলীলা চালানো হয়েছে, তাতে স্তম্ভিত স্কুলপড়ুয়া, অভিভাবক এবং স্থানীয় বাসিন্দারা। সকালে বিষয়টি জানাজানি হতেই স্কুল কর্তৃপক্ষের তরফে গড়িয়াহাট থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে, যার ভিত্তিতে ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

ভাড়া নেওয়া ভবনে হামলা ও সম্পত্তি নষ্ট

বিদ্যালয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কমলা চ্যাটার্জি গার্লস হাইস্কুলের সমস্ত ভবন নিজস্ব নয়। একটি ভবন ভাড়া নিয়ে সেখানে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের পঠনপাঠন চালানো হয়। মূলত ওই ভাড়া নেওয়া অংশটিকেই নিশানা করেছিল দুষ্কৃতীরা। ঘরের ভেতরে ঢুকে আসবাবপত্র ও অন্যান্য দরকারি জিনিসপত্র ব্যাপক হারে তছনছ করা হয়েছে। বিদ্যালয়ের প্রধানশিক্ষিকা দেবযানী দাস জানান, সকালে স্কুলে এসে ঘরের সব কিছু ভাঙা অবস্থায় দেখা যায়। ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজে স্পষ্ট দেখা গিয়েছে, একদল যুবক অত্যন্ত বেপরোয়াভাবে স্কুলের মূল ফটক টপকে ভেতরে প্রবেশ করছে এবং তারপরেই শুরু করছে তাণ্ডবলীলা। স্কুল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে পুলিশের পাশাপাশি জেলা স্কুল পরিদর্শকের (ডিআই) কাছেও এই বিষয়ে বিশদ অভিযোগ জানানো হয়েছে।

নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ ও প্রশাসনিক তৎপরতা

খাস কলকাতার একটি নামী বালিকা বিদ্যালয়ে এমন অনভিপ্রেত অনুপ্রবেশ ও মস্তানির ঘটনা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। এই ঘটনার পেছনে কোনো পুরোনো সম্পত্তিগত বিবাদ নাকি স্রেফ সমাজবিরোধী কার্যকলাপ রয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। সিসিটিভি ফুটেজ হাতে থাকায় অপরাধীদের চিহ্নিতকরণের কাজ সহজ হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এদিকে স্কুল চত্বরে এমন বিশৃঙ্খলার খবর পৌঁছনো মাত্রই নড়েচড়ে বসেছে শিক্ষা দফতর। জেলা স্কুলশিক্ষা দফতর সূত্রে জানানো হয়েছে, উদ্ভূত পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং স্কুলের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে আগামী সোমবার প্রধানশিক্ষিকার সঙ্গে আলোচনা করা হবে। তার পরেই পরবর্তী আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *