গণনার মুখে হাইকোর্টে জোড়া ধাক্কা! কমিশনের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন কল্যাণ

গণনার মুখে হাইকোর্টে জোড়া ধাক্কা! কমিশনের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন কল্যাণ

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬-এর ভোটগ্রহণ শেষ হতে না হতেই গণনার স্বচ্ছতা ও পদ্ধতি নিয়ে আইনি লড়াই শুরু হয়েছে কলকাতা হাইকোর্টে। আগামী ৪ মে ফল ঘোষণার কথা থাকলেও তার ঠিক চার দিন আগে নির্বাচন কমিশনের দুটি সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। বিচারপতি কৃষ্ণ রাও মামলা দুটি গ্রহণের অনুমতি দিয়েছেন, যার ফলে গণনা প্রক্রিয়ার চূড়ান্ত প্রস্তুতিতে নতুন করে জটিলতা তৈরি হয়েছে।

কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে বড় প্রশ্ন

প্রথম মামলাটি দায়ের করেছেন প্রবীণ আইনজীবী তথা তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর মূল আপত্তির জায়গা হলো গণনাকেন্দ্রের ‘সুপারভাইজার’ নিয়োগ। কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, গণনার তদারকিতে শুধুমাত্র কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের রাখা হচ্ছে। রাজ্য সরকারি কর্মীদের এই গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া থেকে সম্পূর্ণ বাদ রাখার সিদ্ধান্তকে একতরফা এবং বৈষম্যমূলক বলে দাবি করেছেন তিনি। এই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় আদালতের সরাসরি হস্তক্ষেপ দাবি করে তিনি কমিশনের উদ্দেশ্য নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।

গণনাকেন্দ্রের সুরক্ষা ও স্থান পরিবর্তনের বিতর্ক

অন্যদিকে, আইনজীবী বিশ্বরূপ ভট্টাচার্য গণনাকেন্দ্রের নিরাপত্তা এবং হঠাৎ করে সেগুলোর স্থান পরিবর্তন নিয়ে দ্বিতীয় মামলাটি করেছেন। নির্বাচনের একদম শেষ মুহূর্তে এসে কেন গণনাকেন্দ্র সরানো হচ্ছে এবং এই সিদ্ধান্তের পেছনে স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। উল্লেখ্য, এবারের নির্বাচনে গণনাকেন্দ্রের সংখ্যা আগের তুলনায় কমিয়ে ৮৭টি করা হয়েছে, যা ২০২১ সালের তুলনায় অনেকটাই কম। এই কাটছাঁট এবং পরিবর্তনের সিদ্ধান্তই এখন আইনি কাঠগড়ায়।

আইনি এই লড়াইয়ের ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত হতে পারে ৪ মে’র গণনা প্রক্রিয়া। আদালত যদি রাজ্য সরকারি কর্মীদের অংশগ্রহণের পক্ষে রায় দেয় বা গণনাকেন্দ্র পরিবর্তনের সিদ্ধান্তে স্থগিতাদেশ জারি করে, তবে কমিশনকে বড় ধরনের প্রশাসনিক রদবদল করতে হবে। রাজনৈতিক মহলের মতে, গণনার ঠিক আগমুহূর্তে এই আইনি জট কমিশনের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করল, যা ফল ঘোষণার দিন শান্তিশৃঙ্খলা ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনায় প্রভাব ফেলতে পারে।

এক ঝলকে

  • ভোটগণনা ঘিরে কলকাতা হাইকোর্টে বিচারপতি কৃষ্ণ রাও-এর এজলাসে দুটি পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছে।
  • গণনাকেন্দ্রে শুধু কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের সুপারভাইজার হিসেবে নিয়োগের বিরোধিতায় মামলা করেছেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়।
  • শেষ মুহূর্তে গণনাকেন্দ্রের স্থান পরিবর্তনের সিদ্ধান্তের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দ্বিতীয় মামলাটি করেছেন আইনজীবী বিশ্বরূপ ভট্টাচার্য।
  • আগামী ৪ মে রাজ্যের ২৯৪টি আসনের ফল ঘোষণা, তার আগে আদালতের রায়ের ওপর নির্ভর করছে গণনা পদ্ধতির ভবিষ্যৎ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *