গরমে যখন-তখন ওআরএস নয়, জলশূন্যতার এই দাওয়াই কাদের জন্য বিপদের কারণ

তীব্র গরমে শরীর ঠান্ডা রাখতে বা ক্লান্তি দূর করতে অনেকেই নিয়মিত ওআরএস (ওরাল রিহাইড্রেশন সল্ট) পান করছেন। অনেক অভিভাবকই শিশুর টিফিনে নিয়ম করে ফ্লেভার্ড ওআরএস দিয়ে দিচ্ছেন। তবে চিকিৎসকদের মতে, ওআরএস কোনো সাধারণ শক্তিবর্ধক পানীয় বা এনার্জি ড্রিঙ্ক নয়। এটি মূলত গ্লুকোজ, সোডিয়াম, পটাশিয়াম ও বাইকার্বনেটের একটি নির্দিষ্ট মিশ্রণ, যা শরীরে লবণের ভারসাম্য বজায় রাখে। তাই প্রয়োজন ছাড়া এটি পান করলে উপকারের চেয়ে অপকারই বেশি হতে পারে।
কখন ওআরএস গ্রহণ জরুরি
শরীরে জলশূন্যতা বা ডিহাইড্রেশন তৈরি হলেই কেবল ওআরএস খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। গরমের কারণে ডায়েরিয়া বা বারবার বমি হলে শরীর থেকে জল ও খনিজ লবণ বেরিয়ে যায়, যা পূরণে ওআরএস অত্যন্ত কার্যকর। এছাড়া রোদে অতিরিক্ত ঘাম হলে, প্রবল জ্বর বা সংক্রমণের কারণে শরীর নিস্তেজ হয়ে পড়লে এবং দীর্ঘক্ষণ শরীরচর্চার পর ক্লান্তি কাটাতে এই পানীয় গ্রহণ করা যেতে পারে। তবে বমি হলে একবারে অনেকটা না খেয়ে অল্প অল্প করে চুমুক দিয়ে খাওয়া উচিত।
যাঁদের জন্য ওআরএস হতে পারে মারাত্মক
ওআরএস সবার জন্য সমান নিরাপদ নয়। বিশেষ কিছু শারীরিক সমস্যায় এটি হিতে বিপরীত ঘটাতে পারে।
- কিডনি ও হার্ট ফেলিওর: ওআরএসে সোডিয়াম ও পটাশিয়ামের মাত্রা বেশি থাকে। তাই কিডনি বা হার্টের সমস্যা থাকলে এটি পান করা বিপজ্জনক।
- ডায়াবেটিস: এতে থাকা গ্লুকোজ রক্তের শর্করার মাত্রা হঠাত বাড়িয়ে দিতে পারে, যা ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।
- অজ্ঞান অবস্থায়: কোনো ব্যক্তি জ্ঞান হারালে তাঁকে ওআরএস খাওয়ানো উচিত নয়; এতে তরল শ্বাসনালিতে ঢুকে নিউমোনিয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।
- তীব্র জটিলতা: ডিহাইড্রেশন খুব বেড়ে গেলে বা একটানা বমি হতে থাকলে ওআরএসে কাজ হয় না, সেক্ষেত্রে রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে আইভি ফ্লুইড বা স্যালাইন দেওয়া প্রয়োজন।
অপ্রয়োজনে ওআরএস খাওয়ার অভ্যাস শরীরে খনিজ লবণের ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে। তাই সুস্থ অবস্থায় সাধারণ জল বা প্রাকৃতিক পানীয়ের ওপর ভরসা রাখাই বুদ্ধিমানের কাজ।
