গৃহকর্মীকে ধর্ষণের পর লাঠি দিয়ে পিটিয়ে হত্যা স্বামী-স্ত্রীর! সুটকেসে উদ্ধার কঙ্কাল হয়ে যাওয়া দেহ, চরম নৃশংসতা – এবেলা

গৃহকর্মীকে ধর্ষণের পর লাঠি দিয়ে পিটিয়ে হত্যা স্বামী-স্ত্রীর! সুটকেসে উদ্ধার কঙ্কাল হয়ে যাওয়া দেহ, চরম নৃশংসতা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

উত্তর প্রদেশের হাপুড়ে একটি কৃষিজমি থেকে উদ্ধার হওয়া পরিত্যক্ত সুটকেসের রহস্য উন্মোচন করেছে পুলিশ। গত ১ ডিসেম্বর উদ্ধার হওয়া সেই কঙ্কালসার দেহটি ছিল ঝাড়খণ্ডের এক তরুণীর, যাকে দিনের পর দিন শারীরিক নির্যাতনের পর নৃশংসভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। এই ঘটনায় জড়িত অভিযোগে অঙ্কিত এবং তার স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। দীর্ঘ তদন্ত ও দিল্লির এক ব্যবসায়ীর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এই রোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের কিনারা সম্ভব হয়েছে।

ঘটনার ভয়াবহ নেপথ্য

তদন্তে জানা গেছে, অঙ্কিত ও তার স্ত্রী ঝাড়খণ্ড থেকে মেয়েদের নিয়ে এসে দিল্লি-এনসিআর এলাকায় গৃহপরিচারিকার কাজে লাগাত। মৃত তরুণীকেও তারা একইভাবে নিয়ে এসেছিল এবং সে তাদের সাথেই থাকত। অভিযোগ উঠেছে, অভিযুক্ত অঙ্কিত ওই তরুণীকে ধর্ষণের পর তার আপত্তিকর ভিডিও রেকর্ড করে রাখে। নির্যাতিতা এই অপরাধের প্রতিবাদ জানালে এবং পুলিশের কাছে যাওয়ার হুমকি দিলে তাকে ডান্ডা দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করে এই দম্পতি। গত ২৭ আগস্ট নয়ডায় এই হত্যাকাণ্ড ঘটানোর পর ২৯ আগস্ট দেহটি সুটকেসে ভরে হাপুড়ের একটি নির্জন ক্ষেতে ফেলে আসা হয়েছিল।

তদন্ত ও অপরাধী শনাক্তকরণ

পুলিশ প্রথমে মৃতদেহের পরিচয় শনাক্ত করতে ব্যর্থ হলেও দিল্লির এক ব্যবসায়ীর দেওয়া সূত্র ধরে তদন্তে মোড় ঘোরে। ওই ব্যবসায়ীর বাড়ির অন্য এক পরিচারিকা এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি কোনোভাবে দেখে ফেলেছিল, যার মাধ্যমে অঙ্কিতের কুকীর্তি সামনে আসে। হাপুড়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিনীত ভাটনগর জানান, অভিযুক্ত দম্পতি অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে দেহটি সরিয়ে প্রমাণ লোপাটের চেষ্টা করেছিল। বর্তমানে অভিযুক্ত দুজনই শ্রীঘরে এবং তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

এক ঝলকে

  • গত ১ ডিসেম্বর হাপুড়ের একটি ক্ষেতে সুটকেস থেকে এক তরুণীর কঙ্কাল উদ্ধার করা হয়।
  • মৃত তরুণী ঝাড়খণ্ডের বাসিন্দা ছিলেন এবং নয়ডায় গৃহপরিচারিকার কাজ করতেন।
  • ধর্ষণ ও আপত্তিকর ভিডিও করার প্রতিবাদ করায় অঙ্কিত ও তার স্ত্রী তরুণীকে পিটিয়ে হত্যা করে।
  • দিল্লির এক ব্যবসায়ীর তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযুক্ত দম্পতিকে গ্রেপ্তার করেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *