গোদাবরীতে সপরিবারে ঝাঁপ ইঞ্জিনিয়ারের, সলিলসমাধি ৩ জনের! সুইসাইড নোটে শুটিং কোচের মারাত্মক ব্ল্যাকমেল ও ধর্মান্তর চেষ্টার ফাঁস – এবেলা

গোদাবরীতে সপরিবারে ঝাঁপ ইঞ্জিনিয়ারের, সলিলসমাধি ৩ জনের! সুইসাইড নোটে শুটিং কোচের মারাত্মক ব্ল্যাকমেল ও ধর্মান্তর চেষ্টার ফাঁস – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

অন্ধ্রপ্রদেশের রাজামহেন্দ্রবরমে গোদাবরী নদীর রোড-কাম-রেল ব্রিজ থেকে একই পরিবারের চারজনের ঝাঁপ দেওয়ার ঘটনায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। এই মর্মান্তিক ঘটনায় পঞ্চায়েত রাজ দপ্তরের অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার তিল্লাপুড়ি নুকারাজু (৬১), তাঁর স্ত্রী মিনা (৫৯) এবং মেয়ে সৌজন্যের (৩৪) সলিলসমাধি ঘটেছে। তবে কপালজোরে বেঁচে গিয়েছে সৌজন্যের ১০ বছরের ছেলে রিয়াংশ কার্তিকেয়, যাকে স্থানীয় জেলেরা জল থেকে জীবিত উদ্ধার করেন।

ঘটনাটি গত ১৬ অগস্ট মধ্যরাতে ঘটলেও, সম্প্রতি মৃত ইঞ্জিনিয়ারের পকেট থেকে উদ্ধার হওয়া সুইসাইড নোট এবং হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট প্রকাশ্যে আসতেই পুরো মামলার মোড় ঘুরে গেছে। সেখানে অভিযুক্ত করা হয়েছে এক স্থানীয় রাইফেল শুটিং কোচকে।

শুটিং কোচের মারাত্মক চক্রান্ত: পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্তের নাম শেখ সাদিক খান। তিনি একটি শুটিং অ্যাকাডেমি চালান এবং মৃত ইঞ্জিনিয়ারের নাতি যে স্কুলে পড়ত, সেখানে তিনি রাইফেল শুটিং কোচ হিসেবে কাজ করতেন। গত দু’বছর ধরে এই পরিবারের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতা ছিল। গত জুলাই মাসে সৌজন্যের স্বামী জগদীশ রেড্ডি রহস্যজনকভাবে মারা যাওয়ার পর পরিবারটির ওপর শেখ সাদিকের মানসিক আধিপত্য বাড়ে।

সুইসাইড নোটে অভিযোগ করা হয়েছে, পরিবারের এই শোক ও দুর্বল মানসিক অবস্থার সুযোগ নিয়ে শেখ সাদিক তাদের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ করতে শুরু করেন। তিনি ব্যাঙ্কের অ্যাকাউন্ট হাতানো, সম্পত্তি দখল, নিয়মিত অর্থ আদায়, ব্ল্যাকমেলিং, এমনকি হত্যার হুমকি পর্যন্ত দিতে থাকেন। শুধু তা-ই নয়, পরিবারটিকে ধর্মান্তরিত করার জন্যও চরম চাপ সৃষ্টি করছিলেন বলে অভিযোগ।

৫ রাজ্যে তল্লাশির পর মিরাট থেকে গ্রেপ্তার: ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত সাদিক ফোন বন্ধ করে এবং সমস্ত ডিজিটাল লেনদেন এড়িয়ে আত্মগোপন করেছিলেন। কাকিনাড়া জেলার পুলিশ সুপার বিন্দু মাধব জানান, তাঁকে ধরতে অন্ধ্রপ্রদেশ পুলিশের ১০টি দল গঠন করা হয় এবং ৫টি রাজ্যে অভিযান চালানো হয়। অবশেষে সোমবার রাতে উত্তরপ্রদেশের মিরাট থেকে তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।

মঙ্গলবার তাকে ট্রানজ়িট ওয়ারেন্টে অন্ধ্রপ্রদেশে এনে আদালতে পেশ করা হলে বিচারক তাকে পুলিশ হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। বর্তমানে সুইসাইড নোট ও হোয়াটসঅ্যাপ বার্তার ওপর ভিত্তি করে ঘটনার নেপথ্যে থাকা প্রতিটি দিক খতিয়ে দেখতে অভিযুক্তকে মুখোমুখি বসিয়ে জেরা করছে পুলিশ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *