‘গোমাতাকে শ্রদ্ধা না করলে আইন আছে!’ হাইকোর্টের রায়ের পর হুঙ্কার দিলীপের – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
‘গরুকে যারা শ্রদ্ধা করে না, তাদের জন্য আইন আছে,’ ইদে কুরবানি বিতর্কে কড়া মন্তব্য দিলীপ ঘোষের
বকরি ইদে প্রকাশ্য রাস্তায় গরু কুরবানি দেওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে কলকাতা হাইকোর্ট। আদালতের এই ঐতিহাসিক পর্যবেক্ষণ ও রায়কে কেন্দ্র করে যখন রাজ্য রাজনীতি তোলপাড়, ঠিক তখনই এই প্রসঙ্গে অত্যন্ত কড়া প্রতিক্রিয়া দিলেন রাজ্যের বর্তমান পঞ্চায়েত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। শনিবার সকালে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি স্পষ্ট জানান, এ দেশে গরুর একটি বিশেষ মর্যাদা রয়েছে এবং যারা আইন অমান্য করবেন, তাঁদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
গোমাতার সম্মান ও গঙ্গার সাথে তুলনা
দিলীপ ঘোষ তাঁর স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে ভারতীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের কথা মনে করিয়ে দিয়ে বলেন, “ভারতে থাকা সকল ব্যক্তির কাছেই যেমন গঙ্গা নদীর একটি বিশেষ আধ্যাত্মিক ও সামাজিক মর্যাদা রয়েছে, তেমনই গোমাতারও বিশেষ মর্যাদা রয়েছে।” তিনি আরও যোগ করেন, ভারতীয় সমাজ গরুকে অত্যন্ত শ্রদ্ধা করে। যেভাবে আমরা নিজেদের মা-বাবাকে সম্মান করি, ঠিক একইভাবে গোমাতাকেও সম্মান করা আমাদের কর্তব্যের মধ্যে পড়ে। আর যারা এই সামাজিক ও আইনি রীতিনীতিকে বুড়ো আঙুল দেখাবেন, তাঁদের জন্য দেশের আইন নিজের পথেই চলবে।
কলকাতা হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ ও ধর্মীয় অনাবশ্যকতা
উল্লেখ্য, কলকাতা হাইকোর্ট তার সাম্প্রতিক আদেশে স্পষ্ট জানিয়েছে যে, বকরি ইদের উৎসব পালনের সাথে প্রকাশ্য রাস্তায় গরু জবাই করার কোনো বাধ্যতামূলক ধর্মীয় সম্পর্ক নেই। আদালত সুপ্রিম কোর্টের ১৯৫৫ সালের ঐতিহাসিক ‘মহম্মদ হানিফ কুরেশি বনাম বিহার রাজ্য’ মামলার রায়কে উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, ইসলাম ধর্মে ইদের দিন গরু কুরবানি দেওয়া কোনো আবশ্যিক ধর্মীয় প্রথা (Essential Religious Practice) নয়। কুরবানির জন্য ছাগল বা ভেড়াও ব্যবহার করা যেতে পারে। আদালতের এই রায়কে মান্যতা দিয়ে রাজ্যের বিভিন্ন মৌলানা এবং মসজিদ কমিটিগুলিও ইতিমধ্যে জানিয়ে দিয়েছে যে, গরু জবাই বাধ্যতামূলক নয় এবং তারা আইনবিরুদ্ধ কোনো কাজ সমর্থন করবে না।
পরিকাঠামো মূল্যায়নের নির্দেশ রাজ্যকে
প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল এবং বিচারপতি পার্থসারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চ রাজ্য সরকারকে নির্দেশ দিয়েছে যে, গবাদি পশু কুরবানির জন্য রাজ্যে পর্যাপ্ত ও নিয়মতান্ত্রিক পরিকাঠামো রয়েছে কি না, তা যেন খতিয়ে দেখা হয়। ১৯৫০ সালের পশ্চিমবঙ্গ পশু জবাই আইন (Animal Slaughter Act) অনুযায়ী নির্দিষ্ট শংসাপত্র বা সার্টিফিকেট প্রদানের মাধ্যমে যাতে সমস্ত নিয়ম মেনে গবাদি পশুর কুরবানির ব্যবস্থা করা যায়, তার জন্য উপযুক্ত সরকারি পরিকাঠামো গড়ে তোলার আশাপ্রকাশ করেছে আদালত।
এক ঝলকে
- ইদে প্রকাশ্য রাস্তায় গরু কুরবানির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারির আবহে কড়া বার্তা দিলেন রাজ্যের পঞ্চায়েত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ।
- দিলীপ ঘোষের মতে, ভারতে গঙ্গা নদীর মতোই গোমাতার বিশেষ মর্যাদা রয়েছে এবং যারা আইন মানবেন না, তাঁদের জন্য শাস্তির ব্যবস্থা রয়েছে।
- সুপ্রিম কোর্টের ১৯৫৫ সালের রায় উল্লেখ করে কলকাতা হাইকোর্ট স্পষ্ট করেছে, ইদে গরু কুরবানি দেওয়া ইসলাম ধর্মে বাধ্যতামূলক নয়।
- আদালতের রায়কে স্বাগত জানিয়ে আইন অমান্য না করার এবং ছাগল-ভেড়াকে বিকল্প হিসেবে ব্যবহারের বার্তা দিয়েছে মসজিদ কমিটিগুলিও।
- ১৯৫০ সালের আইন মেনে শংসাপত্র সহ গবাদি পশুর কুরবানির উপযুক্ত সরকারি পরিকাঠামো খতিয়ে দেখার নির্দেশ নবান্নকে।
