ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়ানোর দিন শেষ, রাজ্যজুড়ে শোরগোল ফেলে মালবাজারে চালু অভিনব উদ্যোগ ‘পরিচয়’

চা-বাগান অধ্যুষিত অনগ্রসর এলাকার বাসিন্দাদের সরকারি নথিপত্র পাওয়ার ভোগান্তি দূর করতে জলপাইগুড়ির মালবাজার মহকুমা প্রশাসন রাজ্যে প্রথম চালু করল বিশেষ পাইলট প্রজেক্ট ‘পরিচয়’। মালবাজার মহকুমা শাসক উৎকর্ষ খন্ডালের ভাবনায় ও জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় গড়ে তোলা এই ব্যবস্থার মাধ্যমে হাসপাতাল থেকে শিশু সন্তানকে নিয়ে বাড়ি ফেরার এক মাসের মধ্যেই কোনো রকম লাইন ছাড়াই পৌঁছে যাবে জন্ম সনদ, আধার কার্ড ও জাতিগত শংসাপত্র। প্রতিদিন মালবাজার সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে নির্দিষ্ট সময় পোস্ট অফিসের কর্মী বসে আধার এনরোলমেন্ট সম্পাদন করবেন এবং এরপর সংশ্লিষ্ট পঞ্চায়েত বা পুরকর্মীরা সরাসরি বাড়িতে গিয়ে জাতিগত শংসাপত্রের তথ্য সংগ্রহ করে আনবেন।
বিশেষ অ্যাপ্লিকেশন ও তথ্যভিত্তিক পোর্টালের মাধ্যমে সমস্ত প্রক্রিয়াটিকে সর্বোচ্চ ২১ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে সম্পন্ন করে নথিপত্র বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য স্থির করা হয়েছে। এই পরিষেবার সুবাদে সাধারণ মানুষকে কাজ ফেলে, যাতায়াত খরচ করে আর সরকারি অফিসে চক্কর কাটতে হবে না। বিধায়ক শুক্রা মুন্ডা সহ স্থানীয় প্রতিনিধিরা প্রশাসনের এই উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন এবং ইতোমধ্যেই প্রায় দশজন নবজাতকের পরিবার ঘরে বসেই এই সুবিধা ভোগ করেছেন। প্রাথমিক পর্যায় সফল হলে সমস্ত বিভাগকে একসঙ্গে নিয়ে এই অনন্য ও নাগরিককেন্দ্রিক পরিষেবাকে আরও ব্যাপক পরিসরে রূপায়িত করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
