ঘরের মধ্যে ৪৫ কিলোমিটারের ট্রেন লাইন! ২৪ ফুটের মডেলে চমক নিউ ব্যারাকপুরের শিল্পীর – এবেলা

ঘরের মধ্যে ৪৫ কিলোমিটারের ট্রেন লাইন! ২৪ ফুটের মডেলে চমক নিউ ব্যারাকপুরের শিল্পীর – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

নিউ ব্যারাকপুর: ছোটবেলায় পাড়ার ঝুলনে মাটির পুতুল আর রেলের লাইন সাজানোর শখ ছিল। সেই শখ যে একদিন পেশায় রূপ নেবে এবং ভারতীয় রেলের ট্রেনিংয়ে কাজে আসবে, তা হয়তো ভাবেননি নিউ ব্যারাকপুরের বাসিন্দা অনুপ বিশ্বাস। চার দেওয়ালের মাঝে মাত্র ২৪ ফুট দীর্ঘ ও ৪ ফুট চওড়া জায়গায় তিনি বানিয়ে ফেলেছেন ৪৫ কিলোমিটার আসল রেলপথের একটি নিখুঁত মিনিয়েচার বা ‘স্কেল মডেল’।

ঝুলন থেকে বিড়লা একাডেমি: ছোটবেলার মডেল তৈরির নেশা থেকেই পরবর্তীকালে ‘বিড়লা একাডেমি অফ ফাইন আর্টস’-এ ভর্তি হন অনুপবাবু। সেখান থেকে পড়াশোনা শেষ করে তিনি আইআইটি খড়্গপুর (IIT Kharagpur) ও এনটিপিসি (NTPC)-র মতো খ্যাতনামা সংস্থার জন্য নানা বৈজ্ঞানিক ও টেকনিক্যাল মডেল তৈরি করেন। তবে মনে মনে ইচ্ছে ছিল রেল ব্যবস্থাকে সহজভাবে ফুটিয়ে তোলার। সেই ভাবনা থেকেই জন্ম নেয় এই বিশালাকার মডেলটি।

২৪ ফুটের মডেলে কী কী রয়েছে? প্রায় আড়াই মাসের পরিশ্রমে ৮-১০ জনের একটি দল নিয়ে তৈরি হয়েছে এই ট্রেন লাইনটি। দেখে বোঝার উপায় নেই যে এটি কোনো খেলনা! এতে রয়েছে—

  • নিখুঁত রেল ট্র্যাক, পাথর, ব্রিজ ও ওভারব্রিজ।
  • টানেল, সিগন্যাল পোস্ট এবং ওভারহেড বিদ্যুতের খুঁটি।
  • পুরো রেল বিদ্যুতায়ন ও ট্রাকশন ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেম (TRD)।

সাজিয়ে রাখার জিনিস নয়, কাজে লাগবে রেলকর্মীদের: অনুপ বিশ্বাসের এই সৃষ্টি কেবল প্রদর্শনী বা সাজিয়ে রাখার জন্য নয়, এটি মূলত ব্যবহৃত হবে কাঁচরাপাড়া রেলওয়ে ওয়ার্কশপের ট্রেনিং সেন্টারে। রেলকর্মী ও শিক্ষানবিসদের ‘হাতে-কলমে’ শেখানোর জন্য এই মডেল তৈরি করা হয়েছে।

রেলের কর্মীরা এক জায়গায় দাঁড়িয়েই বুঝতে পারবেন কীভাবে ৩৩,০০০ ভোল্ট বিদ্যুৎ নেমে ১১,০০০ ভোল্টে পরিণত হয়, কীভাবে সাবস্টেশন থেকে লাইনে পাওয়ার সাপ্লাই যায় কিংবা জরুরি অবস্থায় পাওয়ার সুইচিং করা হয়। আগে যা বোঝার জন্য মাইল কা মাইল হেঁটে ট্র্যাকে ঘুরে বেড়াতে হতো, এখন চার দেওয়ালের মধ্যে দাঁড়িয়েই তা সহজে শেখা সম্ভব হবে।

ইঞ্জিনিয়ারিং ও দক্ষতার মেলবন্ধন: পুরো প্রকল্পটি তৈরিতে খরচ হয়েছে প্রায় ২ থেকে আড়াই লক্ষ টাকা। শিল্পীর মতে, বাস্তবে ১০ ফুট দীর্ঘ কোনো জিনিসকে স্কেল অনুযায়ী হুবহু ১ ইঞ্চিতে নামিয়ে আনাটাই ছিল সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

বর্তমানে অনুপের কাছে বহু ছাত্রছাত্রী ছবি আঁকা ও মডেল তৈরির কাজ শেখে। তাঁর ভবিষ্যৎ স্বপ্ন—নিজের হাতে এমন আরও বহু ‘মডেল মেকার’ তৈরি করা, যারা দেশ-বিদেশের বড় বড় ইঞ্জিনিয়ারিং প্রজেক্টে অবদান রাখবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *