চলতি দশকের শেষেই মানবজাতির ধ্বংস? এআই-এর গতি কমানোর জোরালো সতর্কবার্তা অ্যানথ্রোপিক সিইও-র – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
September 13, 20266:33 pm
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (AI)-এর ক্রমবর্ধমান দাপট কি শেষ পর্যন্ত মানবসভ্যতার বিলুপ্তির কারণ হয়ে দাঁড়াবে? প্রযুক্তি দুনিয়ায় যখন এই উৎকর্ষ নিয়ে উচ্ছ্বাস তুঙ্গে, ঠিক তখনই চলতি দশকের শেষেই এক চরম বিপর্যয়ের আশঙ্কা প্রকাশ করলেন முன்னணி এআই গবেষণা সংস্থা ‘অ্যানথ্রোপিক’-এর সিইও ডারিও আমোদেই। তাঁর সাফ কথা, যে অবিশ্বাস্য গতিতে এআই প্রযুক্তি এগোচ্ছে, তাতে দ্রুত লাগাম না টানলে এবং সুরক্ষার চাদর প্রস্তুত না করলে মানবজাতি এক ভয়ংকর সর্বনাশের মুখে পড়তে পারে। সম্প্রতি সিএনএন-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই আশঙ্কার কথা জানান তিনি।
আমোদেই একা নন, কিছুদিন আগেই অ্যানথ্রোপিকের প্রাক্তন গবেষক জ্যাকব কক্সনও একই দাবি করে সংস্থা থেকে পদত্যাগ করেছিলেন। কক্সনের মতে, বর্তমান এআই নির্মাতারা ভেতরে ভেতরে বিশ্বাস করেন যে এই প্রযুক্তি চলতি দশকের শেষেই মানবজাতিকে ধ্বংস করতে পারে। প্রাক্তন সহকর্মীর এই সতর্কবার্তার সঙ্গে পুরোপুরি একমত পোষণ করেছেন আমোদেই নিজেও। তবে তিনি এটিকে কোনো নিশ্চিত লটারির ফল বা ভাগ্যের খেলা না ভেবে, এআই উন্নয়নের সঠিক পথ বেছে নেওয়ার উপর জোর দিয়েছেন।
এই আশঙ্কার মূল কারণ হিসেবে আমোদেই সামনে এনেছেন ‘রিকার্সিভ সেলফ-ইমপ্রুভমেন্ট’ বা স্বয়ংক্রিয় আত্ম-উন্নয়ন প্রযুক্তিকে। এর ফলে এআই সিস্টেমগুলো মানুষের সাহায্য ছাড়াই নিজেরাই আরও বেশি শক্তিশালী ও বুদ্ধিমান হয়ে উঠছে, যা অদূর ভবিষ্যতে মানুষের নিয়ন্ত্রণ ও বুদ্ধিমত্তার বাইরে চলে যাওয়ার প্রবল ঝুঁকি তৈরি করছে। তবে তিনি গবেষণা পুরোপুরি বন্ধ করতে বলেননি; বরং প্রযুক্তির এই গতির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে নিরাপত্তা গবেষণা ও কঠোর নজরদারির জন্য সামান্য বাড়তি সময় চেয়েছেন।
এই লক্ষ্য অর্জনে প্রতিটি এআই সংস্থায় স্বাধীন থার্ড-পার্টি বা নিরপেক্ষ গবেষকদের যুক্ত করার বিশেষ প্রস্তাব দিয়েছেন আমোদেই, যাঁদের কাছে মডেলের সুরক্ষা ও কার্যকারিতা পরীক্ষার পূর্ণ অধিকার থাকবে। ডারিও-র এই যুগান্তকারী ও দূরদর্শী ভাবনার সঙ্গে ইতিমধ্যেই একমত হয়েছেন ওপেনএআই-এর সিইও স্যাম অল্টম্যান এবং প্রযুক্তি জগতের শীর্ষ ব্যক্তিত্ব ইলন মাস্ক। ফলে লাগামহীন এআই দৌড়ের রোমাঞ্চ ছাপিয়ে এখন বিশ্বজুড়ে সুরক্ষার প্রশ্নটিই সবচেয়ে বড় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে।
