চার বছর পর সোশাল মিডিয়ায় ফিরলেন অর্পিতা, অতীত ভুলে এবার নতুন অধ্যায় শুরুর ঘোষণা! – এবেলা

চার বছর পর সোশাল মিডিয়ায় ফিরলেন অর্পিতা, অতীত ভুলে এবার নতুন অধ্যায় শুরুর ঘোষণা! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

রাজ্যের বহুল চর্চিত নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় নাম জড়িয়ে এক লহমায় খবরের শিরোনামে এসেছিলেন মডেল ও অভিনেত্রী অর্পিতা মুখোপাধ্যায়। প্রাক্তন মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ এই বান্ধবীর বাড়ি থেকে কোটি কোটি টাকা ও বিপুল পরিমাণ সোনা উদ্ধারের ঘটনায় তোলপাড় হয়েছিল রাজ্য রাজনীতি। দীর্ঘ আইনি টানাপোড়েন আর কারাবাসের পর প্রায় চার বছর যাবৎ জনসমক্ষ এবং সামাজিক মাধ্যম থেকে সম্পূর্ণ দূরে ছিলেন তিনি। অবশেষে দীর্ঘ নীরবতা ভেঙে আবারও ডিজিটাল দুনিয়ায় ফিরে এলেন অর্পিতা। সামাজিক মাধ্যমে এক আবেগঘন বার্তার মাধ্যমে তিনি নিজের জীবনের এক নতুন অধ্যায় শুরুর ঘোষণা দিয়েছেন।

অন্ধকার দিন কাটিয়ে নতুন করে পথ চলার অঙ্গীকার

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করা এক দীর্ঘ বার্তায় অর্পিতা তাঁর জীবনের কঠিনতম সময়গুলোর অভিজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। এই অন্তরাল পর্বে তাঁর মাকে হারানোর অপূরণীয় শোক এবং তীব্র শূন্যতার কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, মায়ের স্মৃতিই ছিল তাঁর টিকে থাকার একমাত্র ভরসা। বিপদের দিনে যারা খবরের শিরোনামের বাইরে তাঁর আসল মানুষটিকে চিনে পাশে দাঁড়িয়েছিলেন, তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন তিনি। অতীতের ভুলত্রুটি ও বিচার প্রক্রিয়ার ওপর পূর্ণ আস্থা রেখে, তিনি এখন তাঁর পরিবার, নিজের মানসিক ও শারীরিক আরোগ্য এবং ফেলে আসা দায়িত্বগুলো সামলানোর দিকেই সম্পূর্ণ মনোযোগ দিতে চান। প্রতিদিন একটু একটু করে নিজেকে গুছিয়ে নেওয়ার মাধ্যমে তিনি এক শান্ত ও ইতিবাচক জীবনের দিকে এগোচ্ছেন।

প্রত্যাবর্তনের কারণ ও সম্ভাব্য সামাজিক প্রভাব

২০১১ সালে অভিনয় জগৎ দিয়ে ক্যারিয়ার শুরু করা ১৯ বছর বয়সী অর্পিতা তৎকালীন শিল্পমন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের সংস্পর্শে আসেন। এরপর টলিউড ও ওড়িয়া চলচ্চিত্রে পার্শ্বচরিত্রের পাশাপাশি মডেলিং ও বড় পুজো কমিটির বিজ্ঞাপনেও স্থান করে নেন। তবে ২০২২ সালের সেই আকস্মিক অর্থ উদ্ধার কাণ্ড তাঁর পুরো জীবনকে ওলটপালট করে দেয়। বর্তমান এই সামাজিক মাধ্যমে প্রত্যাবর্তনের মূল কারণ হলো আইনি ও ব্যক্তিগত বিপর্যয় কাটিয়ে নিজের একটি নতুন সামাজিক ভাবমূর্তি তৈরি করা এবং মানসিক ট্রমা থেকে মুক্তি পাওয়া। বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রত্যাবর্তনের ফলে সামাজিক মাধ্যমে তীব্র মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যেতে পারে। একদিকে যেমন তাঁর অতীত বিতর্ক নিয়ে নতুন করে নেটিজেনদের মধ্যে আলোচনা তৈরি হবে, অন্যদিকে তেমনি একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে তাঁর স্বাভাবিক জীবনে ফেরার এই চেষ্টাকে অনেকে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে মূল্যায়ন করবেন। তবে এই ডিজিটাল সক্রিয়তা আগামী দিনে তাঁর সামাজিক অবস্থানের ওপর কতটা প্রভাব ফেলবে, তা সময়ই বলে দেবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *