চা বা কফির সাথে ভিটামিন সাপ্লিমেন্ট খাচ্ছেন, অজান্তেই ডেকে আনছেন মারাত্মক ক্ষতি – এবেলা

চা বা কফির সাথে ভিটামিন সাপ্লিমেন্ট খাচ্ছেন, অজান্তেই ডেকে আনছেন মারাত্মক ক্ষতি – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

শরীরের পুষ্টির ঘাটতি মেটাতে অনেকেই চিকিৎসকের পরামর্শে বা নিজে থেকে নিয়মিত বিভিন্ন ভিটামিন এবং খনিজের সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করেন। আবার ক্লান্তি দূর করতে সকাল বা বিকেলে এক কাপ গরম চা বা কফি অনেকেরই রোজকার অভ্যাস। তবে এই দুটি অভ্যাস একসাথে মিশে গেলেই বিপত্তি। ব্রিটেনের জাতীয় স্বাস্থ্য পরিষেবা (NHS)-এর এক চিকিৎসক সম্প্রতি এই বিষয়ে একটি বড়সড় সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তাঁর মতে, নির্দিষ্ট কিছু সাপ্লিমেন্ট চা বা কফির সাথে খেলে শরীরের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে এবং সাপ্লিমেন্টগুলোর কার্যকারিতা সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়।

কার্যকারিতা নষ্ট হওয়ার মূল কারণ

চা এবং কফির মধ্যে উচ্চ মাত্রায় ক্যাফেইন, ট্যানিন এবং পলিফেনল নামের উপাদান থাকে। এই উপাদানগুলো মানুষের পাকস্থলীতে গিয়ে নির্দিষ্ট কিছু ভিটামিন ও খনিজের সাথে রাসায়নিক বন্ধন তৈরি করে। এর ফলে শরীর সেই পুষ্টিকর উপাদানগুলোকে রক্তে শোষণ করতে বাধা পায়। ফলে দামী সাপ্লিমেন্ট খেলেও তা শরীরের কোনো কাজে লাগে না এবং সম্পূর্ণ অপচয় হয়। বিশেষ করে চা বা কফি মূত্রবর্ধক হিসেবে কাজ করায় জলে দ্রবণীয় ভিটামিনগুলো শরীর শোষণ করার আগেই বাইরে বেরিয়ে যায়।

ঝুঁকিতে থাকা প্রধান সাপ্লিমেন্টগুলো

চিকিৎসকদের মতে, রক্তাল্পতার জন্য ব্যবহৃত আয়রন সাপ্লিমেন্ট চা বা কফির সাথে খেলে এর শোষণ ক্ষমতা প্রায় ৮০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে। একইভাবে হাড় শক্ত রাখার জন্য জরুরি ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি কফির ক্যাফেইনের কারণে শরীর থেকে দ্রুত বের হয়ে যায়, যা হাড়ের ঘনত্ব কমার ঝুঁকি বাড়ায়। এছাড়া ভিটামিন বি-কমপ্লেক্স এবং ভিটামিন সি-এর মতো প্রয়োজনীয় উপাদানগুলোও চা-কফির গরম তাপমাত্রা ও রাসায়নিক বিক্রিয়ার কারণে কার্যকারিতা হারায়।

প্রভাব ও চিকিৎসকদের পরামর্শ

ভুল নিয়মে সাপ্লিমেন্ট গ্রহণের ফলে শরীরে পুষ্টির ঘাটতি পূরণ হয় না, বরং দীর্ঘমেয়াদে শারীরিক দুর্বলতা ও স্বাস্থ্য ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এই সমস্যা এড়াতে যেকোনো ধরণের ভিটামিন বা মিনারেল সাপ্লিমেন্ট খাওয়ার জন্য সাধারণ তাপমাত্রার জল ব্যবহার করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। যদি চা বা কফি খেতেই হয়, তবে সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ এবং চা-কফি পানের মধ্যে অন্তত ১ থেকে ২ ঘণ্টার ব্যবধান রাখা জরুরি। সুস্থ থাকার জন্য কেবল সঠিক পুষ্টি উপাদান গ্রহণ করাই যথেষ্ট নয়, তা সঠিক নিয়মে খাওয়াও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *