‘চুক্তি না মানলে যা করার করব!’ যুদ্ধবিরতির মাঝেই ইরানকে চরম হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
ওয়াশিংটন: আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি চললেও উত্তেজনার আঁচ এখনও কমেনি। স্থায়ী শান্তি চুক্তির লক্ষ্যে আলোচনার প্রথম পর্বে ইরানের ওপর থেকে বেশ কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেছে আমেরিকা। তবে এরই মাঝে ফের তেহরানকে চরম হুঁশিয়ারি দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ইরান চুক্তির শর্ত লঙ্ঘন করলে কড়া পদক্ষেপ নিতে বিন্দুমাত্র পিছপা হবে না আমেরিকা।
কী বললেন ডোনাল্ড ট্রাম্প?
সোমবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অত্যন্ত কড়া সুরে বলেন, “ইরান যদি চুক্তি না মেনে চলে বা সঠিক আচরণ না করে, তাহলে আমার যা করার প্রয়োজন, আমি তাই করব।”
নিষেধাজ্ঞা শিথিলের বিষয়ে তিনি একটি বড় শর্তের কথাও মনে করিয়ে দেন:
- খাদ্য কেনার শর্ত: ট্রাম্প জানান, ইরানের জন্য যে সম্পদ বা অর্থ মুক্ত করা হচ্ছে, তা শুধুমাত্র আমেরিকা থেকে খাদ্যপণ্য কেনার ক্ষেত্রেই ব্যবহার করা যাবে।
- মার্কিন কৃষকদের লাভ: তাঁর দাবি, “যে অর্থ আমরা ছাড় দিচ্ছি, তার সবটাই খাদ্য কেনার মাধ্যমে আমাদের কাছেই ফিরে আসবে। ইরানের ৯১ মিলিয়ন মানুষের খাদ্যের চাহিদা মেটাতে আমাদের থেকেই খাবার কিনতে হবে, যার লাভ সরাসরি পৌঁছবে আমাদের কৃষকদের কাছে।”
শান্তি চুক্তির মাঝেই কেন নতুন উদ্বেগ?
প্রায় তিন মাস আগে আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ হামলার জবাবে ইরানও উপসাগরীয় মার্কিন ঘাঁটি ও ইজরায়েলে পালটা হামলা চালিয়েছিল। দীর্ঘ সংঘাতের পর গত সপ্তাহেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের মধ্যে একটি চুক্তি সই হয়। কিন্তু খাতায়-কলমে চুক্তি হলেও বাস্তব পরিস্থিতি বেশ জটিল:
- লেবাননে ইজরায়েলের সামরিক অভিযান এখনও অব্যাহত রয়েছে।
- এর জেরে ফের হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
- আমেরিকা-ইজরায়েলের হামলা এবং লেবাননে অভিযানের ফলে হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং লক্ষ লক্ষ মানুষ ঘরছাড়া হয়েছেন।
আন্তর্জাতিক বাজারে প্রভাব:
ইরান-আমেরিকা সংঘাতের সরাসরি প্রভাব পড়েছে বিশ্ব অর্থনীতিতে। বিশ্বজুড়ে অপরিশোধিত তেলের দাম একধাক্কায় অনেকটা বেড়ে গিয়েছে, যা নিয়ে বিনিয়াগকারীদের মধ্যেও চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, চুক্তির বাস্তবায়ন এবং আঞ্চলিক সংঘাত পুরোপুরি না থামা পর্যন্ত পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি ফেরা যথেষ্ট কঠিন।
