ছাত্র রাজনীতি থেকে বাংলার মসনদে, শুভেন্দু অধিকারীর উত্থানে নতুন ইতিহাস – এবেলা

ছাত্র রাজনীতি থেকে বাংলার মসনদে, শুভেন্দু অধিকারীর উত্থানে নতুন ইতিহাস – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির পটপরিবর্তনে এক অবিস্মরণীয় অধ্যায় তৈরি করে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিতে চলেছেন শুভেন্দু অধিকারী। ছাত্র রাজনীতি থেকে উঠে আসা এই জননেতা একসময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছায়াসঙ্গী থাকলেও, বর্তমানে তাঁর হাত ধরেই রাজ্যে প্রথমবার পদ্ম শিবির ক্ষমতার শীর্ষে পৌঁছাল। শুক্রবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দুর নাম ঘোষণা করার পর মেদিনীপুর থেকে নবান্ন পর্যন্ত তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক সফরের দিকেই এখন সবার নজর।

নান্দীগ্রাম থেকে ক্ষমতার শীর্ষে

শুভেন্দু অধিকারীর রাজনৈতিক জীবনের প্রধান মাইলফলক ছিল ২০০৭ সালের নন্দীগ্রাম আন্দোলন। বাম সরকারের জমি অধিগ্রহণের বিরুদ্ধে ‘ভূমি উচ্ছেদ প্রতিরোধ কমিটি’ গঠন করে তিনি সরাসরি মাঠে নেমে লড়াই করেছিলেন। তৎকালীন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ২০১১ সালে ৩৪ বছরের বাম শাসনের পতনের কারিগর ছিলেন শুভেন্দু। পরবর্তীতে ২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনে খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নন্দীগ্রামে পরাজিত করে তিনি নিজের সাংগঠনিক শক্তির প্রমাণ দেন। ২০২৬-এর নির্বাচনে সন্দেশখালি বা আরজি কর-এর মতো স্পর্শকাতর ইস্যুগুলোকে হাতিয়ার করে তিনি তৃণমূলের দুর্গে বড়সড় ধস নামাতে সক্ষম হয়েছেন।

উত্তরাধিকার ও রাজনৈতিক কৌশলের সমন্বয়

১৯৭০ সালে কাঁথির এক রাজনৈতিক পরিবারে জন্ম নেওয়া শুভেন্দু ১৯৮৯ সালে ছাত্র পরিষদের মাধ্যমে রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। তাঁর পিতা শিশির অধিকারী মেদিনীপুরের প্রবীণ ও প্রভাবশালী নেতা হওয়ায় রাজনীতির প্রাথমিক পাঠ তিনি ঘর থেকেই নিয়েছিলেন। ১৯৯৫ সালে কাঁথি পুরসভার কাউন্সিলর হওয়ার মাধ্যমে শুরু হওয়া সেই সফর আজ তাঁকে রাজ্যের সর্বোচ্চ পদে বসাল। মূলত মেদিনীপুর অঞ্চলের ওপর অধিকারীদের আধিপত্য এবং গ্রামীণ মানুষের সঙ্গে তাঁর নিবিড় সংযোগই বিজেপিকে তিন আসন থেকে এক লাফে সংখ্যাগরিষ্ঠতায় পৌঁছে দিতে সাহায্য করেছে।

শুভেন্দু অধিকারীর এই উত্তরণ বাংলার রাজনীতিতে একটি বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রণকৌশলকে তাঁরই প্রাক্তন সেনাপতি যেভাবে প্রতিহত করেছেন, তা আগামী দিনে রাজ্যের প্রশাসনিক কাঠামো ও জননীতিতে ব্যাপক প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে কৃষিনির্ভর আন্দোলন থেকে উঠে এসে তিনি কীভাবে শিল্পায়ন এবং কর্মসংস্থানের ভারসাম্য বজায় রাখেন, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

এক ঝলকে

  • ১৯৮৯ সালে ছাত্র পরিষদের মাধ্যমে রাজনীতিতে প্রবেশ এবং ১৯৯৫ সালে প্রথম কাউন্সিলর নির্বাচিত হন।
  • ২০০৭ সালের নন্দীগ্রাম আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে বাম শাসনের ভিত নাড়িয়ে দিয়েছিলেন।
  • ২০২১ নির্বাচনে নন্দীগ্রাম আসনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে আসেন।
  • ২০২৬ নির্বাচনে বিজেপির ঐতিহাসিক জয়ের পর পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তাঁর নাম ঘোষিত হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *