“জন্ম-মৃত্যুর সার্টিফিকেট বাদে সব দিয়েছি!” ইডি দফতর থেকে বেরিয়ে বিস্ফোরক মদন মিত্র – এবেলা

“জন্ম-মৃত্যুর সার্টিফিকেট বাদে সব দিয়েছি!” ইডি দফতর থেকে বেরিয়ে বিস্ফোরক মদন মিত্র – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

পুরনিয়োগ দুর্নীতি মামলায় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)-এর দীর্ঘ ও ম্যারাথন জেরার মুখোমুখি হলেন কামারহাটির তৃণমূল বিধায়ক মদন মিত্র। বুধবার সিজিও কমপ্লেক্সে অবস্থিত ইডি দফতরে হাজিরা দেন তিনি। প্রায় টানা আট ঘণ্টা ধরে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার আধিকারিকরা তাঁকে মুখোমুখি বসিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।

জেরা পর্ব শেষে ইডি দফতর থেকে বেরিয়ে মদন মিত্র জোরালো দাবি করেন যে, তিনি বা তাঁর পরিবারের কোনো সদস্যই কোনো ধরনের বেআইনি কাজের সঙ্গে যুক্ত নন এবং কোনো দুর্নীতিকেও তিনি মদত দেননি।

তদন্তে সম্পূর্ণ সহযোগিতার কথা পুনর্ব্যক্ত করে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মদন মিত্র বলেন, “আমায় যা যা তথ্য চাওয়া হয়েছিল, সবটা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা চাইলেই তদন্ত করতে পারে, আমাদের কর্তব্য তাদের সাহায্য করা। ওরা যা যা নথি চেয়েছে, সব দিয়েছি, কেবল জন্ম ও মৃত্যুর সার্টিফিকেট ছাড়া।” তবে তাঁকে পুনরায় তদন্তের স্বার্থে তলব করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে ইডির পক্ষ থেকে এখনও সুনির্দিষ্টভাবে কিছু জানানো হয়নি বলে জানান তিনি।

পরিবারের বাকি সদস্যদেরও এর আগে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে ইডি

পুরনিয়োগ সংক্রান্ত দুর্নীতির এই মামলাটি নিয়ে গত কয়েক মাস ধরেই তৎপরতা বাড়িয়েছে কেন্দ্রীয় এজেন্সি। এর আগেও মদন মিত্রের বিভিন্ন ঠিকানায় তল্লাশি চালিয়েছিল ইডি।

  • আগের তল্লাশি: গত জুন মাসেই কামারহাটির বিধায়কের দক্ষিণেশ্বর ও ভবানীপুরের বাড়িতে একযোগে অভিযান চালিয়েছিলেন তদন্তকারীরা। সেই সময় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথিও সংগ্রহ করা হয়েছিল।
  • পরিবারকে জেরা: সেই তল্লাশির রেশ ধরেই একে একে মদন মিত্রের পরিবারের সদস্যদের তলব করা হয়। গত সপ্তাহেই তাঁর ছোট ছেলে শুভরূপ মিত্র এবং বড় ছেলে স্বরূপ মিত্রকে দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করেন ইডি আধিকারিকরা। এমনকি তাঁর স্ত্রী অর্চিতা মিত্রকেও তলব করে দীর্ঘক্ষণ জেরা করা হয়।

পরিবারের বাকি সদস্যদের পর এবার খোদ কামারহাটির বিধায়ককে ডেকে দীর্ঘক্ষণ ম্যারাথন জেরা করার ঘটনায় রাজনৈতিক মহলে তরজা তুঙ্গে উঠেছে। এই মামলার তদন্তে আগামী দিনে ইডি আর কী কী পদক্ষেপ করে, সেটাই এখন দেখার।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *