জয়নগরে মাঝরাতে পুলিশের মেগা অ্যাকশন, সরকারি ত্রাণ চুরির অভিযোগে গ্রেফতার ৪ শাসকদল সদস্য – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
ভোট পরবর্তী রাজনৈতিক উত্তাপের মাঝেই দক্ষিণ ২৪ পরগনার জয়নগরে বড়সড় ধাক্কা খেল শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। বন্যা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত সাধারণ মানুষের জন্য আসা সরকারি ত্রাণ সামগ্রী বিলি না করে, তা গোপন গোডাউনে লুকিয়ে রেখে কালোবাজারি ও আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগে গ্রেফতার করা হলো নারায়নীতলা গ্রাম পঞ্চায়েতের চারজন তৃণমূল সদস্যকে। জয়নগর থানার পুলিশের এই আকস্মিক অভিযানে ধৃত পঞ্চায়েত সদস্যরা হলেন অশোক সাহা, রথীন সাহা, চিন্দ্রিমা ঘোষ এবং শ্রীমা ঘোষ। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শনিবার সকাল থেকেই গোটা এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
দুর্যোগের ত্রাণে নয়ছয় ও পুলিশের হানা
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক বন্যা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে জয়নগরের বিস্তীর্ণ এলাকার গরিব পরিবারগুলি চরম ক্ষতিগ্রস্ত হন। দুর্গতদের প্রাথমিক সাহায্যের জন্য সরকারের তরফ থেকে বিপুল পরিমাণ জরুরি ত্রাণ সামগ্রী পাঠানো হয়েছিল নারায়নীতলা গ্রাম পঞ্চায়েতে। নিয়ম অনুযায়ী সেই ত্রাণ দ্রুত বণ্টন করার কথা থাকলেও, ধৃত চার সদস্য তা সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে থাকা একটি গোপন গোডাউনে মজুত করে রাখছিলেন। গোপন সূত্রে এই খবর জানতে পেরে স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব জয়নগর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করে।
অভিযোগ পাওয়া মাত্রই শুক্রবার গভীর রাতে ওই নির্দিষ্ট গোডাউনটিতে চিরুনি তল্লাশি চালায় জয়নগর থানার পুলিশ বাহিনী। সেখানে তল্লাশি চালাতেই চোখ কপালে ওঠে তদন্তকারীদের। গোডাউনের ভেতর থেকে থরে থরে সাজানো অবস্থায় উদ্ধার হয় বিপুল পরিমাণ মজুত করা সরকারি চাল, ডাল, ত্রিপল, শুকনো খাবার এবং জরুরি ওষুধপত্র। এই সমস্ত সামগ্রী চুরির উদ্দেশ্যে লুকিয়ে রাখার প্রাথমিক প্রমাণ মেলা মাত্রই চার পঞ্চায়েত সদস্যকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
রাজনৈতিক পারদ চড়ল জয়নগরে
এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই জোড়াফুল শিবিরের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছে গেরুয়া শিবির। স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, দুর্গত মানুষ যখন ঘরছাড়া, তখন তৃণমূলের জনপ্রতিনিধিরা সরকারি ত্রাণ চুরি করে কালোবাজারির ছক কষছিল। এই চক্রের সঙ্গে ওপরতলার আর কোন কোন নেতা যুক্ত, তাঁদেরও অবিলম্বে খুঁজে বের করার দাবি জানিয়েছে তারা। অন্যদিকে, চার জনপ্রতিনিধি শ্রীঘরে ঠাঁই পেলেও এই ঘটনা নিয়ে শাসকদলের স্থানীয় বা জেলা স্তরের কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, দুর্নীতির অকাট্য প্রমাণ মিলে যাওয়ায় আপাতত ব্যাকফুটে রয়েছে শাসকদল।
জয়নগর থানার পুলিশ আধিকারিক জানিয়েছেন, উদ্ধার হওয়া সমস্ত ত্রাণ সামগ্রী বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে এবং ধৃতদের আদালতে পেশ করে হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানানো হবে। এর পেছনে কোনো বড়সড় সিন্ডিকেট কাজ করছে কি না, তা জানতে ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত জারি রয়েছে।
